কর্মস্থলে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার চেয়ে রিট

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৩১ এএম

আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, রেলস্টেশন, শপিংমল ও বিমানবন্দরসহ সব কর্মস্থলে নিরাপদ পরিবেশে ও স্বাচ্ছন্দ্যে দুগ্ধপোষ্য শিশুকে মায়ের দুধ পান করাতে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। ৯ মাস বয়সী শিশু উমাইর বিন সাদীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী গতকাল বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করেন। তবে আবেদনটি কার্যতালিকায় আসা, শুনানি

ও আদেশ না হওয়া পর্যন্ত ওই শিশুর বাবা, মা এবং আইনজীবীর পরিচয় প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানিয়েছেন রিট সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে জানান, আবেদনে এমন পরিবেশে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, যেখানে কোনো মা সন্তানকে বুকের দুধ পান করাতে যেন সমস্যার সম্মুখীন না হন। উচ্চ আদালতে এই প্রথম নিতান্তই কম বয়সী কোনো শিশুর পক্ষে এমন আবেদন করা হয়েছে। তবে এ জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নিতে হয়েছে।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য সচিব ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় এলে আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে বলে জানান এই আইনজীবী।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, কর্মস্থলে এবং বাস কিংবা রেল স্টেশনে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার না থাকায় মায়েদের নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকাশ্যেই মায়েরা তাদের শিশুদের দুধ পান করিয়ে থাকেন। এতে করে অস্বস্তিতে ভোগেন ওই শিশুর মায়েরা। অথচ একজন দুগ্ধজাত শিশুর জন্য মায়ের দুধ খুবই জরুরি। শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশ এবং পুষ্টির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুকে সুন্দর, সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশে গড়ে তুলতে এবং নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডে কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনে ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি।

এই প্রকৌশলী আরও বলেন, সরকার স্থাপনা করে দেয়। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব স্কুল কর্র্তৃপক্ষের। হাত ধোয়ার জন্য সাবান বা ছাই হাতের সামনে রাখতে হবে। টয়লেটগুলোতে পরিষ্কার পানি নিশ্চিত করতে হবে। এর দায়িত্ব স্কুল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। ২০১৪ সালের পর আর ‘হাইজিন বেসলাইন সার্ভে’ হয়নি বলে জানান এই প্রকৌশলী। 

জরিপ বলছে, মাত্র ২২ শতাংশ স্কুলে মেয়েদের জন্য আলাদা টয়লেট আছে, যার কোনোটিরই মাসিক ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা নেই। স্কুলগুলোতে মাসিকবান্ধব টয়লেট না থাকায় ৪০ শতাংশ স্কুলছাত্রী গড়ে মাসে তিন দিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। মাত্র ৬ শতাংশ স্কুলে মাসিক সম্পর্কে পড়ানো হয়। ৩১ শতাংশ স্কুলছাত্রী মনে করে, মাসিকের কারণে স্কুলে তাদের স্বাভাবিক লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটে।

এছাড়া ৮৬ শতাংশ স্কুলছাত্রী মাসিকের সময় পুরনো কাপড় ব্যবহার করে। মাত্র ১২ শতাংশ স্কুলছাত্রী মাসিকের সময় ব্যবহৃত কাপড় পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে ধোয় এবং শুকিয়ে নেয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় ৮৬ শতাংশ স্কুলছাত্রী মাসিকের সময় স্কুলে তাদের ব্যবহৃত কাপড় বা স্যানিটারি প্যাড বদলাতে পারে না।

এ ব্যাপারে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মেহেরুন নেছা দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্কুলে নারী শিক্ষকদের ছাত্রীদের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। কারণ একজন ছাত্রী দিনের একটা বড় অংশ স্কুলে থাকে।

২০১৪ সালের হাইজিন বেসলাইন সার্ভের সঙ্গে যুক্ত এমন এক সংস্থার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্কুলে সঠিক মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাবান্ধব টয়লেট এবং পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) সুবিধা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেটের পরিমাণ সরকারি পরিপত্র বা বিজ্ঞপ্তিতে সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। সেক্টর উন্নয়ন পরিকল্পনা (এসডিপি) ২০১১-২০২৫-এর নির্দেশনা অনুসারে, ১:১৮৭-এর পরিবর্তে ১:৫০ জন ছাত্রীর জন্য নতুন এবং পৃথক টয়লেট তৈরি ও পরিচালনার জন্য যে বাজেট দরকার, তা নেই। এর জন্য স্কুলগুলোকে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। স্কুলে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচি থাকা প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত