আবার ক্রিকেট বোর্ডের মুখোমুখি অবস্থানে সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাত্র কদিন আগে আন্দোলনে যাওয়া দেশের শীর্ষ খেলোয়াড়দের নেতা হিসেবে বিসিবির সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন। সেই সমস্যা দ্রত মিটলেও এবার তার বিরুদ্ধে
বিসিবি চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলল। আর তা সম্প্রতি গ্রামীণফোনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে চুক্তিতে সাকিব সই করায়। বিসিবি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তার আগে অলরাউন্ডারকে দিচ্ছে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ।
গত ২১ অক্টোবর খেলোয়াড়রা তাদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে নামেন। বোর্ড দাবি মানলে বুধবার রাতে ধর্মঘট থেকে ফেরেন ক্রিকেটাররা। মাঝের দিনটাতে (২২ অক্টোবর) টেলিকম কোম্পানিটির সঙ্গে চুক্তিতে সই করেন সাকিব। এই চুক্তিকে অবৈধ এবং বোর্ডের সঙ্গে সাকিব চুক্তিভঙ্গ করেছেন জানিয়ে গতকাল বিকেলে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘আমাদের আইন অনুযায়ী এটা কোনোভাবেই করার কথা নয়, করতে পারে না। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। সেটা ওই টেলিকম কোম্পানিও জানে, খেলোয়াড়রাও জানে। ওদের (ক্রিকেটারদের) সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। এটি কেন করল?’ পাপন বলেন, ‘আগে তো ওকে (সাকিব) আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। সেই কারণে ওকে আমরা চিঠি দিচ্ছি। তবে একটা ব্যাপার হলো, এটি কোনোভাবেই সে করতে পারে না, সম্পূর্ণভাবে বেআইনি।’
এটা অনেক বড় চুক্তি। নিশ্চিতভাবে কয়েক কোটি টাকার। সাকিব নিশ্চিতভাবে কিছু না বুঝে, না জেনে, নিশ্চিত না হয়ে চুক্তিটা করেননি। বোঝা যায়, নিজের অবস্থানে কঠোর থাকবেন ক্রিকেটার। বোর্ড তবু খেলোয়াড়দের চুক্তির বাইরে যেতে দেবে কেন? তারপরও কথা হলো দেশের সেরা খেলোয়াড় সাকিব। তার জন্য কি কোনো ছাড় দেওয়া হতে পারে? কথা শেষে চলে যেতে উদ্যত পাপন এই প্রশ্নে স্পষ্ট উচ্চারণে জানিয়ে যান, ‘প্রশ্নই আসে না।’
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান স্পন্সর এখন ইউনিলিভার। চুক্তিটা শেষের দিকে। বিসিবির টার্গেট পরের চুক্তিটা একটু দীর্ঘমেয়াদে করার এবং সেটি বড় অঙ্কের টাকায়। আগের দফা টেলিকম কোম্পানি রবির সঙ্গে চুক্তি থাকলেও তা শেষ করা যায়নি। বিসিবির দাবি, সেজন্য বড় আর্থিক লোকসান হয়েছে তাদের। প্রায় ৯০ কোটি টাকার লোকসান বলা হচ্ছে। আর তা ঘটেছিল জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রয়োজনমতো না পাওয়ায়। তখন কারও কারও সঙ্গে ভিন্ন মোবাইল ফোন কোম্পানির চুক্তি ছিল।
পাপনের দাবি, এভাবে কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে হয়তো কয়েক কোটি টাকায় ওই মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো চুক্তি করে নিজেদের লাভ বুঝে নিল। ওই ক্রিকেটারদেরও লাভ হলো। কিন্তু ক্ষতি হলো বৃহত্তর স্বার্থের।
বিসিবি তাই আগের চেয়ে বেশি সতর্ক। রবির সঙ্গে চুক্তির সময়ও খেলোয়াড়দের টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে না যাওয়ার ধারা ছিল। তাকে নিয়ে সমস্যা হয়েছিল আগেরবারও। আর এবারও নতুন একটা সমস্যা সৃষ্টি হলো।
গত শুক্রবার জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রথম দিন ছিলেন না সাকিব। গতকাল ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। মাঠে নামার আগে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজনের সঙ্গে দেখা করেছেন। মিনিট পনেরোর বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে জানা যায়নি।
তবে নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন, জাতীয় স্পন্সরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এমন কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে খেলোয়াড়দের বোর্ড নিরুৎসাহিত করে। নিয়ম হলো, যেকোনো কমার্শিয়াল চুক্তির আগে বোর্ডের অনুমতি চেয়ে খেলোয়াড় চিঠি দেবেন। বিসিবি অনুমতি দিলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন খেলোয়াড়। গ্রামীণফোনের সঙ্গে সাকিবের চুক্তির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নিজাম উদ্দিন বলেন, খেলোয়াড়ের কাছ থেকে আগে কিছু জানতে পারেননি তারা।
এমন চুক্তিতে কোথায় বাধা সেটি জানতে চাইলে নিজাম উদ্দিন বললেন, ‘এখন আমাদের জাতীয় স্পন্সর ইউনিলিভার। ওদের সঙ্গে চুক্তি শিগগিরই শেষ হবে। এখন খেলোয়াড়রা যদি কোনো টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে তাহলে ইউনিলিভারের সঙ্গে চুক্তি শেষ হলে অন্য টেলিকম কোম্পানি জাতীয় দলের স্পন্সর হতে আগ্রহী হবে না।’ সব মিলে পরিস্থিতিটা জটিল হয়ে উঠেছে। আবার তাই মুখোমুখি সাকিব ও বিসিবি।
