চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে পার্কিংয়ের নামে চাঁদাবাজির সময় একজনকে আটক করেছে চট্টগ্রাম ডিবি পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে চাঁদাবাজির প্রমাণ হিসেবে ২ বান্ডিল চাঁদা আদায়ের টোকেন উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত রায়হান প্রকাশ রোমিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে সেকশন অফিসার মো. রাশেদ করিমের ছেলে। সে চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী বলে জানা যায়।
সোমবার ভর্তি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় রেল স্টেশন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর তাকে হাটহাজারী মডেল থানায় প্রেরণ করা হয়। সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজা।
আটকের সময় রোমিও নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক উপগ্রুপ বাংলার মুখের অনুসারী বলে দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানায়, সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে আসা বিভিন্ন সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে পার্কিংয়ের নামে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করার অভিযোগ উঠে রোমিওর বিরুদ্ধে। প্রতিটি গাড়ি থেকে ৩০ টাকা চাঁদা নিয়ে রশিদ দেয়া হচ্ছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে পার্কিংয়ের জায়গাটি ইজারা নিয়েছেন। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে সেই অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি।
এদিকে রায়হানের বাবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা মো. রাশেদ করিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভর্তি পরীক্ষার আগে পালি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অরূপ বড়ুয়ার কাছ থেকে পার্কিংয়ের জন্য মৌখিক অনুমতি নেয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে পালি বিভাগের শিক্ষক অরূপ বড়ুয়া বলেন, আমি তো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডির কেউ নই। তাই অনুমতি দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। তবে আমি তাকে লিখিতভাবে প্রক্টর কার্যালয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছিলাম।
অন্যদিকে আটক রোমিওর সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই দাবি করে ‘বাংলার মুখ’ গ্রুপের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক আমির সোহেল বলেন, সে যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়, তাই আমাদের সংগঠনেরও সদস্য নয়। তবে সে আমাদের পরিচিত ছোট ভাই। চাঁদাবাজির অপরাধ করে থাকলে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রেজাউল করিম বলেন, চাঁদাবাজির দায়ে একজনকে আটকের পর হাটহাজারী থানায় পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে ভর্তিপরীক্ষার পরে আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
