মঞ্চ থেকে ‘নামতে’ বলা নিয়ে ক্ষোভ

হাসিনা মহিউদ্দিনের কাছে ক্ষমা চাইতে নাছিরকে আলটিমেটাম

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:১৫ এএম

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের জেলা প্রতিনিধিদের সভামঞ্চ থেকে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিনকে নামিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে দলের নেতাকর্মীদের একাংশ। তারা এজন্য চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে দায়ী করে তাকে হাসিনা মহিউদ্দিনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এজন্য তারা ২৪ ঘণ্টা সময়ও বেঁধে দিয়েছেন। 

গতকাল সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগসহ কয়েকটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সমাবেশ করে ওই ঘটনার প্রতিবাদও জানান। 

হাসিনা মহিউদ্দিন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের মা। গত রবিবার চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের ৬টি সাংগঠনিক জেলার প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং চট্টগ্রামের ৬টি সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে হাসিনা মহিউদ্দিনসহ আরও কয়েকজন বসতে চাইলে সেখানে তাদের না বসার অনুরোধ করেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। হাসিনা মহিউদ্দিনও তখন মঞ্চ থেকে নেমে যান। তবে মঞ্চেই ওই ঘটনার প্রতিবাদ জানান স্থানীয় আরও কয়েক নেতা। পরে রাতে নগরীর কয়েক জায়গায় এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা বিক্ষোভও করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু করেন। 

গতকালও বিক্ষোভ সমাবেশ করে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী একটি আবেগের নাম। তিনি চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের প্রাণ ছিলেন। তিন দফায় সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন করেছেন। তার স্ত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করা মানে তাকেই অপমান করা।

এ সময় তারা আ জ ম নাছিরকে হাসিনার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেয়র নাছির ক্ষমা না চাইলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় নেতা। মঞ্চে বসা না বসা নিয়ে রাজনীতির ইস্যু তৈরি করা তো ঠিক নয়। চট্টগ্রামের ৬ সাংগঠনিক জেলার প্রতিনিধি সভামঞ্চে কে বসবেন, তা কেন্দ্রীয় নেতারা ঠিক করে দিয়েছেন। সেই অনুসারে শৃঙ্খলা রক্ষায় মঞ্চ থেকে নেমে সামনের সারিতে বসার অনুরোধ করেছি এবং যাদের অনুরোধ করেছি ওনারা কথা রেখেছেন। এখানে কাউকে তো নামিয়ে দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে অপরাজনীতি করা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত