মায়ের মতো‌ ‘মা’

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৯, ০১:৫৭ এএম

স্বাক্ষর করতে পারা রাহিলা খাতুন কীভাবে শিক্ষিত করলেন সন্তানদের; পাশে থাকছেন সবার? স্বামীকে যৌবনে হারিয়ে শুধু ভিটেবাড়ি নিয়ে জীবনযুদ্ধে জয়ী মানুষটির কথাগুলো লিখেছেন সগীর হোসেন

আমি গ্রামের সাধারণ এক মেয়ে, এখন বয়সের প্রায় শেষ দিকে । নানা রোগে আক্রান্ত। তারপরও জীবনের গল্পটি সবিনয়ে নিবেদন করতে চাই। গ্রাম, শহরে হাজার হাজার মা আমার মতো আছেন। পথেঘাটে, নানা বাজে জীবনে আছেন কত নারী। তাদের সবাইকে সম্মান দেখাতে, নিজের জীবনের আলোটুকু তাদের কাছে পৌঁছে দিতে, আরও আলোর পথে তাদের বিনীতভাবে আসতে আগ্রহ জাগাতে এই কথাগুলো বলছি।

নামটি রাহিলা খাতুন, আব্বা জৈনউদ্দিন হাওলাদার, মা আমার কুলসুম বিবি। তারা আর নেই এই দুনিয়াতে। বাবা ছিলেন কৃষক। আমাদের বাড়ি শরীয়তপুর জেলা সদরের ডোমসার ইউনিয়নের আবুড়া গ্রাম। এক ভাই, দুই বোন; আমি মেজ। বড় ভাই আলী হোসেন হাওলাদার, ছোট বোন সবুরজান। ভাইটি বাপের মতো কৃষক, বোনটি আমার মতো গৃহবধূ ছিলেন।

তারা লেখাপড়া করতে পারেননি অভাবে, সংকটে। আমিও তাই। তবে ইচ্ছে ছিল সবার মতোই। কাছে তো তখন সেই পাকিস্তান আমলের শুরুর দিকে কোনো বিদ্যালয় ছিল না। আর মেয়েদের বাড়ির বাইরে যাওয়াও ছিল মানা। অল্প বয়সে তখন মেয়েদের বিয়ে হতো। আর বাবাও মারা গিয়েছিলেন বছর ১২ বয়সের মধ্যে। তাই হলো বিপদ।

দেখতে অনেকে এখনো আমাকে ভালো বলেন। গায়ের রংটি এত কষ্টেও মরেনি। সাদাই আছে। সেটিই চোখে পড়েছিল কোনো একভাবে আবুল হাশেম মুন্সির। তিনি আইন উদ্দিন মুন্সির ছেলে; বাড়ি ফরিদপুরে। আমাদের জেলা থেকে ১শ মাইল দূরের; আমাদের তো জেলাই হয়নি তখন। কেমন করে আমাকে দেখলেন বলতে পারব না। তার পর থেকে পেছনে লাগলেন জোঁকের মতো–এই অসাধারণ সুন্দরী মেয়েটিকেই আমি বিয়ে করব। তাদের অভাব, পিতা নেই; কোনোকিছুই দরকার নেই। ফলে বলতে গেলে জোর করেই বিয়ে করেছিলেন ১৯৬৩ সালে। তখন আমার মাত্র বছর ১২ বছর।

মানুষটি আমার লেখাপড়া জানতেন। ব্রিটিশ আমলের দশম শ্রেণি পাস। কথাবার্তায় ভালো, শিক্ষিত; চাকরি করেন ভালো; তাই মানা করিনি। চলে এলাম আমরা নতুন সংসারে। শরীয়তপুর সদর উপজেলার টাউন চিকন্দি গ্রামে। জেলা শহরের ১০ কিলোমিটার দূরের এই গ্রামেই ১৮৭২ সালে ব্রিটিশরা একটি চৌকি আদালত গড়েছিলেন। এখনো সেটি আছে। সেখানেই চাকরি করেছেন স্বামী। তাদের পরিবারের অবস্থা ভালো ছিল; সমাজে সম্মানও ছিল খুব। তার বাবা আইন উদ্দিনকে লোকে ‌‘মুন্সি’ ডাকতেন। সেই ১৯২০ সালে হজ করে এসেছিলেন ধর্মপ্রাণ মানুষটি। এরপর থেকে তাদের পরিবারের পদবিই হয়ে গেল ‘মুন্সি’। তার ছেলে এই জেলা চৌকি আদালতে ছিলেন বিখ্যাত উকিল বিনয় বাবুর এক নম্বর সহকারী। তাকে আদালত ও সংশ্লিষ্ট সব কাজে সাহায্য করা, নানা দলিল ও তথ্য সংরক্ষণ, সেসব ফাইল গুছিয়ে রাখা, এগিয়ে দেওয়া; তার হাতে লেখা মামলার বিবরণ কপি বা অনুলিখন, কখনো প্রয়োজনে সবগুলো মামলা নিজে তার মুখের ব্রিফিংয়ে লেখা; কোন মামলা আদালতে কবে উঠবে, আদালতের সওয়াল জবাব ও অন্যসব পরিবেশ পরিস্থিতি–সব ধরনের কাজই করতে হতো। স্বামী নিজে আবার এসব ডায়েরিতে আলাদা করে লিখে রাখতেন। ভালোই চলছিল আমাদের। তিনটে ভিটেবাড়ি ছাড়া আর কিছু না থাকলেও আদালতের আয়ে সংসারে অভাব ছিল না। তবে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলো। পরে তাদের মধ্যে দলাদলি হলো। আমার মুক্তিযোদ্ধা স্বামী একটি মামলাতে দীর্ঘদিন কালু সরদার ও অন্যদের সঙ্গে ফরিদপুর আদালতে জেল খাটলেন। নানাভাবে চেষ্টা করেও এই দক্ষ আইনজীবীর সহকারী বাঁচতে পারেননি। পরে তিনি হতাশা, বেদনা, শারীরিক শ্রম, অপমান, পরিবেশের অভাব–ইত্যাদি সব মিলিয়ে বাড়িতে ফিরে দিনে দিনে অসুস্থ হয়ে যেতে থাকলেন। হাজার সেবা, রাত দিন চেষ্টা করেও সন্তানদের বাবাকে আমরা বাঁচাতে পারিনি। ১৯৭৯ সালের ১৯ মে মারা গেলেন তিনি। তখন আমাদের বড় ছেলে আলমগীর ১৪ বছরের, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে; হুমায়ূন ১২, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে; মেহেদীর মাত্র ১০, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে; একমাত্র মেয়ে হোসনে আরা (লাভলী) ৮, দ্বিতীয় শ্রেণিতে; ফরিদ আহমেদ পাঁচ আর ছোট ছেলে মুরাদ হোসেন মুন্সি মাত্র এক বছরের কোলের শিশু। গ্রামের মেয়ে হিসেবে অনেক বয়স আমার সেই আমলে– ২৮, সন্তানও অনেকগুলো। নিজেও লেখাপড়া জানি না। ফলে অকূল সাগরে পড়লাম। তবে গ্রামের লোকের নানা আপদে-বিপদে পরামর্শ দিয়ে; তাদের আইনি সাহায্য করে ওদের বাবা খুব ভালো মানুষ হিসেবে নাম করেছিলেন। ফলে তাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা সারা জীবন পেয়ে যাচ্ছি। বড় বোনের দেবর ও মুক্তিযোদ্ধা; চিকন্দী উচ্চ বিদ্যালয়ের নামকরা শিক্ষক ও শরীয়তপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন তালুকদার পাশে ছিলেন বলে আমরা বেঁচে গিয়েছি। তিনি এই পরিবারটিকে সব সময় সাহায্য করেছেন; যেকোনো বিপদে সাহসের সঙ্গে লড়িয়েছেন। আর এই সময় থেকে সারা জীবন আমার পাশে দাঁড়িয়েছে আমার বড় ছেলে আলমগীর। অন্যরা তার পেছনে থেকেছে। সে গ্রামের চিকন্দী সড়ব আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের তখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্র; বাবার আইনজীবী সহকারীর ডায়েরিটি নিয়ে একজন দয়ালু আইনজীবীর সহকারীর কাজ পেল। মাসে তখনই তার বেতন ৫০ টাকা। শক্ত হাতে বুদ্ধি করে আমিও হাল ধরলাম। যেকোনোভাবে ছেলেমেয়েদের উচ্চ শিক্ষিত করব–এই হলো জীবনের একমাত্র বাসনা।

আমাদের তিন ভিটেতে মোট ৫৭ শতক জমি (প্রায় ২৮ গণ্ডা); বিরাট এই বাড়ির একটি টিনের ঘর চিকন্দী পোস্ট অফিসকে ভাড়া দিলাম মানুষের সাহায্যে। এটিই গ্রামের সঙ্গে সারা পৃথিবীর মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ঠিকানা হলো। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ মাসে ১শ টাকা করে ভাড়া শোধ করেন। ফলে অভাব অনেকটা কেটে গেল। পুকুর ভর্তি মাছ, বাড়ি ভর্তি নারকেল, সুপারি, কাঁঠাল, কলাসহ হরেক জাতের অনেকগুলো গাছ আমাদের সহায় হলো। ফল, ফলাদি ও মাছ বিক্রি করে ফেলতাম সারা বছর খেয়েও অনেক। তাতে সংসারে সচ্ছল হয়ে গেলাম। উদ্বৃত্ত টাকা জমাতে লাগলাম। থাকার খরচও বাঁচছে। কী করব তাদের নিয়ে? মনে পড়ল–বাড়ির কাছেই আদালত, অনেক বিচারপ্রার্থী মানুষ আমাদের একটি ঘরে রাতে থেকে পরদিন আদালতে গিয়েছেন, তাদের অভাব, অনটন আর বিচারহীনতা ও দুর্বলতা আমিও শুনেছি; এই মানুষগুলোর পাশে তাদের বাবার ও আমার স্বপ্নপূরণ করতে সবাইকে আইনজীবী বানাব। এটিই আমার চেনা পৃথিবী। এরপর শুরু হলো সবার যুদ্ধ। সরকারি ডাক বিভাগের সেই ভাড়াও বাড়তে লাগল। শ থেকে তিনশ, ৫শ হাজার, দুই হাজার পর্যন্ত মাসে ভাড়া পেয়েছি। এখন পাই তিন হাজার করে মাসে। এ তো আমার জন্য অনেক। আমার বাড়িটিই এখনো গ্রামের লোকের কাছে পোস্ট অফিস। তারা যেমন এসে কথা বলেন, চিঠিপত্র নেন, তেমনি আদালতের চিঠিও আমাদের বাড়ি থেকে যায়। ফলে সততার মূল্য সবসময়ই পেয়েছি। সবার কাছ থেকে শিখেছি, জেনেছি; জানিয়েছি আমরা। স্বাক্ষর আমিই দিই–শিখিয়েছিলেন স্বামী। তখন থেকে লেখাপড়ার মূল্য বুঝেছি। ছেলেমেয়েদের সবসময় ভালো ব্যবহার, দয়া, বিনয় ও লেখাপড়ার দিকে এগিয়ে দিয়েছি, শিখিয়েছি। ওরা সবাই তাই ছাত্র হিসেবে ভালো করেছে। স্কুল থেকে বৃত্তি, শিক্ষকদের মনোযোগ সবই পেয়েছে। তখন পড়ার মান ভালো ও ব্যয় কম ছিল। যখনই কোনো বিপদে পড়েছি, সন্তানদের বলেছি– ‘ধৈর্য ধরো; আল্লাহ আমাদের দেখবেন।’ তাদের যত্ন করতে শিখেছি স্বামীর কাছে। আস্তে আস্তে তারা মানুষ হলো। মোহাম্মদ আলমগীর মুন্সী ১৯৮৪ সালে চিকন্দী সরফ আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিক, ১৯৮৭ সালে নড়িয়া সরকারি কলেজ থেকে ইন্টার; পরে সেখান থেকেই ১৯৮৯ সালে বিএ, অনার্স (ব্যাচেলর অব আর্টস); ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ল’ কলেজ থেকে এলএলবি পাস করেছে। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পরীক্ষা দিয়ে অ্যাডভোকেটের সনদপত্র লাভ করেছে। পরের বছর থেকে আমাদের জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে নিয়মিতভাবে আইন পেশায় আছে। ওর খুব সুনাম। শরীয়তপুর জেলা জজকোর্টের এখন সরকারি কৌঁসুলি। আমার চেয়েও বড় সমাজসেবক। এখন ‘শরীয়তপুর জেলা কমিউনিটি পুলিশিং’-এর সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির শরীয়তপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। ছেলেটি রাজনীতির সঙ্গেও জড়িয়ে নিয়েছে নিজেকে। চিকন্দী ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন করেছে। তবে ভালো আছে। স্ত্রী সানজিদা শারমিন রত্না গৃহিণী। তাদের তিনটি ছেলে– শাহরিয়ার আলমগীর জয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে দর্শনের ছাত্র, সরোয়ার আলমগীর জিম আমাদের পালংতুলাসার গুরুদাস উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণি আর সবার ছোট সামিউল আলমগীর জিৎ ধানুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে।

পরের জন হুমায়ন কবীর মুন্সি খুব গোছানো। একেবারে ছোট থেকে ছাত্র পড়িয়ে আয় করে চলে। আমাকে তখন থেকে সাহায্য করে। ঢাকার ইউআইটিএস (ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস) থেকে বলতে গেলে নিজের ও আমাদের খরচে এলএলবি (ব্যাচেলর অব ল’জ) অনার্স ডিগ্রি নিয়েছে। এরপর কুমিল্লার ময়নামতি সার্ভে ইনস্টিটিউট  থেকে সার্ভে প্রশিক্ষণ নিয়ে পাস করেছে। ২০১১ সাল থেকে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আইনজীবী। এখন সে শরীয়তপুর জেলা সরকারি সহকারী কৌঁসুলি। তার স্ত্রীও খুব ভালো। তাদের বড় সন্তান ইমামুল কবীর কাব্য ঢাকার মোহাম্মদপুর রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আবাসিক ছাত্র হিসেবে নবম শ্রেণিতে পড়ছে। আর ছোটজন কাইফ আমাদের এসডিএস একাডেমির কেজিতে পড়া শুরু করেছে।

আমাদের তৃতীয় সন্তান মোহাম্মদ মেহেদী হাসান মুন্সি ঢাকার বেসরকারি প্রাইম ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি; এখন বাংলাদেশ বেতারের কম্পিউটার অপারেটর ও নিজস্ব শিল্পী। ছোটবেলা থেকে সাংস্কৃতিক মানসিকতার। বাংলাদেশ বেতার কল্যাণ সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তাদের তিনটি সন্তান–মাকফিরাত হাসান রাহা শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি, অলি মোহাম্মদ হাসান আর সুফী মোহাম্মদ হোসেন মাদরাসাতুত তাকওয়া মাদরাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। পরের জন ফরিদ আহমেদ ঢাকার ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের এলএলবি। সেই শহরের মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এমকম (মাস্টার্স অব কমার্স)। এখন মোহাম্মদপুর রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের প্রধান সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা। তাদের ছেলে তাহমিদ আহম্মেদ রাফিদ রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সপ্তম আর মেয়ে রাফনাজ শিশু বয়সে আছে। পরের সন্তান আমার মুরাদ ঢাকার সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির এলএলবি। আমাদের শহরের আইনজীবী। সে খুব সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক মনোভাবাপন্ন–মঞ্চ ও টেলিভিশনের জাদুকর, ছবি তোলে, সাংবাদিকতা করে। তার মেয়ে সুবর্ণা ধানুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। আমার একমাত্র কন্যা সন্তান লাভলী বঙ্গবন্ধু ল’ কলেজ, ঢাকা থেকে এলএলবি। এখন লিগ্যাল হেল্প অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’-এ হিসাবরক্ষক। তার সন্তান হাসনাত আনোয়ার শান্ত শরীয়তপুর সরকারি কলেজে শেষ বর্ষের ছাত্র। আসলে ভাইবোনেরা সবাইকে সবাই সাহায্য করেছে বলে তারা মানুষ হতে পেরেছে। আমি যতটুকু সাধ্য করেছি। তারা আমাকে দুইবার হজ করার সুযোগ দিয়েছে।

গ্রামের মানুষের কথা কোনোদিন ভুলিনি। তাদের সেবার জন্য ‘চিকন্দী মুন্সী ফাউন্ডেশন’ গড়েছি। গ্রাম, আশপাশ এবং আত্মীয়দের মধ্যে গরিব ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দিই আমরা। আমার ছেলেমেয়েরা যেকোনো অভাবী মানুষের জন্য বিনা খরচে আইনি সাহায্য করে। বাড়ির ৫০ ধরনের ফলের গাছের ফল বিক্রি করে, বিলিয়ে আমরা সবাইকে সাহায্য করি। নামাজ, রোজা করেই থাকি। আমার খবর পেয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি একবার গরিবের বাড়িতে এসেছেন। তিনি আমাদের প্রশংসা করে আমার সঙ্গে সময় দিয়েছেন। লেখাপড়ার প্রতি আজীবন ভালোবাসা এবং সন্তানদের সাফল্যের সুবাদে ১০১৮ সালে আমাকে মাদার তেরেসা পদকে সম্মানিত করা হয়েছে। এটি আমার গর্ব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত