নোবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষা

নজিরবিহীন আতিথেয়তা দৃষ্টান্ত নোয়াখালী

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:১২ এএম

‘দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছি। কিন্তু এমন আতিথেয়তা কোথাও দেখিনি। পরীক্ষা দিতে গিয়ে খাবার পাওয়াটা কষ্টসাধ্য, পেলেও চড়া দামে কিনতে হয়। নোবিপ্রবিতে পরীক্ষা দিতে এসে অভিজ্ঞতা ভিন্ন।  ক্যাম্পাসে বিনামূল্যে দুপুরের খাবার পাওয়াটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’ সিলেট থেকে পরীক্ষা দিতে আসা রিজভী এভাবেই বলছিলেন তার অভিজ্ঞতা।

ঢাকা থেকে মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন আহসানুল্লাহ নামে এক অভিভাবক। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দূর থেকে মেয়েকে নিয়ে এসে কোথায় থাকব সে চিন্তা ছিল বেশি। কিন্তু এখানে এসে দেখি থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে সবকিছুতে আন্তরিক নোয়াখালীবাসী।’

গতকাল শুক্রবার উৎসবের মধ্য দিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক সম্মান শ্রেণির ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে। আগেই ঘোষণা ছিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৬৮ হাজার ৭৬০ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করবে নোয়াখালীবাসী। গতকাল প্রথম দিন প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এই আতিথেয়তায় সন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল প্রায় ৮১ ভাগ। আজ শনিবার দ্বিতীয় দিন ‘সি’ ‘ডি’ ‘ই’ ‘এফ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ‘সি’ ইউনিটে ৮ হাজার ২৪৮, ‘ডি’ ইউনিটে ১৪ হাজার ২৪৭, ‘ই’ ইউনিটে ৪ হাজার ৭০০, ‘এফ’ ইউনিটে ৩ হাজার ৭১৯ শিক্ষার্থী অংশ নেবেন। আজও একইভাবে শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করবে নোয়াখালীবাসী।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় দেড় লাখ লোকের আপ্যায়ন ও থাকার ব্যবস্থায় নিরলস পরিশ্রম করছে অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবী। সদর উপজেলা পরিষদ, নোয়াখালী পৌরসভা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আবাসন, খাওয়া, কেন্দ্রে যাতায়াত, প্রাথমিক চিকিৎসাসহ সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নোয়াখালী পৌরসভাসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে জেলার বিভিন্ন স্থানে খোলা হয়েছে তথ্য সহায়তা কেন্দ্র ও প্রাথমিক চিকিৎসা ক্যাম্প। এসব কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে স্বেচ্ছাসেবকরা। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে মনিটরিং সেল।

এদিকে ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে আনন্দমুখর পরিবেশ। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে ক্যাম্পাস। এ ছাড়া বিভিন্ন জেলাভিত্তিক ছাত্রফোরামগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের কাছে তথ্যকেন্দ্র খুলে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছে।

গতকাল সকালে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. দিদার-উল-আলম নোয়াখালী সরকারি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নোয়াখালীবাসীর সহায়তায় অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে নির্বিঘেœ ভর্তি কর্মযজ্ঞ চলছে। শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি স্থানীয় এমপি একরামুল করিম চৌধুরী, পৌরসভার মেয়র শহীদুল্লাহ খান সোহেল, উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন জেহানসহ সর্বস্তরের রাজনৈতিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিরলস কাজ করছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।’ 

প্রক্টর অধ্যাপক ড. নেওয়াজ মোহাম্মদ বাহাদুর  বলেন, নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে দুপুরের খাবার ও পানির ব্যবস্থা করেছেন। নিজ খরচে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ অন্যান্য কেন্দ্রে ভর্তিচ্ছুদের জন্য এ আয়োজন করেন তিনি। খাবার ছাড়াও তার পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য ১০০টি বাস ও ৬০ হাজার বোতলজাত পানি সরবরাহ করা হয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম শামসুদ্দিন জেহান ও পৌর মেয়র শহীদুল্লাহ খান সোহেল জানান, ৪০০ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে। শহরের স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, আবাসিক হোটেল ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে রাখা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সবার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ২০০টি মোটরসাইকেল ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে কাজ করছে। ব্যক্তি পর্যায় থেকেও সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন অনেকে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় নোবিপ্রবি, নোয়াখালী পৌরসভা ও সদর উপজেলা ওয়েবসাইটে সব তথ্য প্রদান করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত