দৈনিক দেশ রূপান্তরে গত ২ অক্টোবর ‘কামরাঙ্গীরচরে সাইদুলের কাছে জিম্মি চার লাখ মানুষ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজী মো. সাইদুল ইসলাম (মাদবর)। প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, আমাকে জড়িয়ে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা আদৌ সত্য নয়। আমি একজন প্রকৃত আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান এবং সফল কাউন্সিলর। আমার ওয়ার্ডে চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও ভূমিদস্যুদের স্থানীয় এমপি এবং প্রশাসনের সহায়তায় উৎখাত করেছি। আমার বড় ভাই সোলায়মান মাদবর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আমি ও আমার পরিবার সামাজিক ও ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমার প্রতিপক্ষ একটি কুচক্রী মহল তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ভুল তথ্য দিয়ে সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
অপর একটি প্রতিবাদলিপিতে ২ নভেম্বর প্রকাশিত ‘দেশ রূপান্তর লুট করেছে সাইদুলের ক্যাডার বাহিনী’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন কাউন্সিলর সাইদুল। তিনি বলেন, ‘আমার এক সমর্থক হকারের কাছ থেকে নগদ টাকা ও বিকাশের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করে পত্রিকা কিনে নিয়েছে; যা কামরাঙ্গীরচর এলাকায় এক “ষড়যন্ত্রকারীর” নামে পাঠানো হয়েছিল। আমার কোনো ক্যাডার বাহিনী নেই। পত্রিকা লুটের সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ’
হাফেজ্জী হুজুরের ছেলের প্রতিবাদ : একই সংবাদের একটি অংশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়ার মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির এবং হাফেজ্জী হুজুরের ছেলে হাফেজ মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুর। তিনি বলেন, একাত্তরে হাফেজ্জী হুজুরের মাদ্রাসায় পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্প ছিল না; বরং সেখানে মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকার নিরীহ জনসাধারণ আশ্রয় নিয়েছিল। আবদুল জলিল মাদবর হাফেজ্জী হুজুরের একজন ভক্ত ও কামরাঙ্গীরচর মাদ্রাসার হিতাকাক্সক্ষী ছিলেন। তিনি প্রায়ই লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে ছাত্রদের খাবারের ব্যবস্থা করতেন। আমাদের জানামতে তিনি পাকিস্তানি বাহিনী বা রাজাকারদের সহযোগিতা করেননি। মুক্তিযুদ্ধে হাফেজ্জী হুজুরের বিশেষ অবদান থাকায় বর্তমান সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক তাকে মরণোত্তর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা সনদ দিয়েছেন।
মুনীর হোসেনের প্রতিবাদ : একই সংবাদে পৃথক প্রতিবাদ জানিয়েছেন কামারাঙ্গীরচর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. মুনীর হোসেন। তিনি বলেন, আমার নাম বিকৃত করে মনির মাতব্বর উল্লেখ করে আমাকে চাঁদাবাজ এবং ফুটবলার ও রহমতবাগে হোসেন হত্যাকা-ে আমার নাম জড়িয়েছে। আমি চাঁদাবাজি, বাহিনী পরিচালনা বা হত্যাকাণ্ডের মতো কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই। বিএনপি সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুটি হত্যাকা-ের সঙ্গে আমার নাম জড়ানো হয়েছে, যা পরে আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য : কামরাঙ্গীরচর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, স্থানীয় ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে একাধিক মুক্তিযোদ্ধা হাফেজ্জী হুজুরের মাদ্রাসায় পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্প থাকার তথ্য দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও কিছু নথিপত্রের ভিত্তিতে সংবাদটি তৈরি করা। সেখানে দেশ রূপান্তর প্রতিবেদকের নিজস্ব কোনো মতামত নেই। আর পত্রিকা লুট করার পর দাম পরিশোধের বিষয়টি প্রতিবাদলিপিতেই স্বীকার করেছেন তিনি।
