যশোরে সরকারি স্টিকার লাগানো গাড়ি থেকে অর্ধ কোটি টাকাসহ তিনজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন- গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার আইকদিয়া গ্রামের আব্দুল মালেক শেখের ছেলে রেজাউল ইসলাম, নওগাঁর বদলগাছি উপজেলার বলারামপুর গ্রামের কাজী মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে কাজী মাসুদ পারভেজ এবং কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বরুরা গ্রামের আবুল খায়ের (মাইক্রো চালক)।
বুধবার বিকেলে যশোর শহরের চাঁচড়া চেকপোস্ট ও পুলেরহাটের মাঝামাঝি স্থান থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহম্মদ বলেন, মাইক্রোবাসে যে স্টিকার লাগানো ছিল তা মন্ত্রী, এমপি ও সচিবেরা ব্যবহার করেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লেখা গোলাকৃতির স্টিকার লাগানো গাড়ির আরোহীরা স্বীকার করেছেন এনবিআর এর এক চালকের কাছ থেকে গাড়িটি ভাড়া নিয়ে তারা যশোরে আসেন।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, ডিবি পুলিশের কাছে খবর ছিল বেনাপোল থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ে একটি গাড়ি আসবে। এ খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহম্মদের নেতৃত্বে একটি টিম বিকেলে বেনাপোলের দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাস আটক করে। মাইক্রোবাসে সরকারি স্টিকার (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার লেখা) ছিল।
তিনি জানান, মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে কোন মাদকদ্রব্য না পেলেও কয়েকটি ব্যাগে বিপুল পরিমাণ টাকা দেখতে পান। সাথে সাথে চালক ও যাত্রীসহ মাইক্রোবাসটি তারা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যান।
তিনি জানান, চালক ছাড়াও মাইক্রোবাসে দুজন যাত্রী ছিলেন। যাত্রীরা তক্ষক সাপ প্রতারকচক্রের সদস্য।
সন্ধ্যায় ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ডেকে গাড়িতে পাওয়া টাকা গণনা করা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা এ সময় গণনা করে দেখেন, গাড়িতে পাওয়া টাকা সাড়ে ৫৫ লাখ। সেখানে উপস্থিত আটক রেজাউল ইসলাম ও কাজী মাসুদ পারভেজও স্বীকার করেন যে, তাদের ব্যাগে সাড়ে ৫৫ লাখ টাকা ছিল।
রেজাউল করিম জানান, রাজধানী ঢাকার শ্যামলী এলাকার কবির নামে এক ব্যক্তির হয়ে তারা যশোরে শার্শা উপজেলার উলাশী গ্রামে গিয়েছিলেন তক্ষকের হাড় বিক্রি করতে। মূলত তারা ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যস্থতাকারী। দুপুর একটার দিকে উলাশীর শাহাবুদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে বসে তারা ১ কোটি টাকায় তক্ষক সাপের দুটি হাড় বিক্রি করেন। এই টাকার মধ্যে সাড়ে ৪৪ লাখ উলাশীর অপর এক মধ্যস্থকারীকে দেয়া হয়। বাকি সাড়ে ৫৫ লাখ টাকা তারা নেন। ঢাকায় কবির নামে ওই ব্যক্তির কাছে টাকা নিয়ে পৌঁছাতে পারলে তারা এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ পেতেন। কিন্তু ঢাকায় যাওয়ার আগেই তারা যশোরে ধরা পড়ে যান। তিনি বলেন, বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলে তারা মাইক্রোবাস ছেড়ে বিমানে করে ঢাকায় যেতেন।
রেজাউল করিম আরও জানান, মাইক্রোবাসটি এনবিআর এর একজন চালকের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকায় ভাড়া করে নিয়ে আসেন। কিন্তু গাড়ি কোন কর্মকর্তার তা তারা জানেন না।
এছাড়া তিনি স্বীকার করেন যে, তক্ষক সাপের হাড় দিয়ে ক্যানসারের ওষুধ তৈরি হয় এমন প্রচারণা চালিয়ে লোকজনকে ঠকানো হয়। এভাবে লোকজনের তারা তক্ষক সাপের হাড় বিক্রি করেন। আবার যিনি তাদের কাছ থেকে কিনেছেন তিনি আরও বেশি দামে হাড় বিক্রি করবেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, ডিবি পুলিশ এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করবে।
