সিপাহি জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও এখনকার ভাবনা

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ১১:০৬ পিএম

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার অভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার ৪৪ বছর পরও তা ক্রমেই নতুনভাবে নতুন প্রজন্মের কাছে উদ্ভাসিত হচ্ছে। ৭ নভেম্বরের সাংগঠনিক উত্তরাধিকার ও দায় বহন করে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলসহ জাসদের তিনটি অংশই। বাংলাদেশ জাসদ এ দিনটিকে সিপাহি জনতার অভ্যুত্থান দিবস নামে পালন করে। বিএনপি দিনটিকে বিপ্লব ও সংহতি দিবস নামে পালন করলেও এবং ক্ষমতার সুফল ভোগ করলেও এর সাংগঠনিক দায় বহন করে না এবং ৭ নভেম্বরের রাজনীতিকে তাদের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করে। তাদের কথা শুনলে মনে হয় অদৃশ্য কোনো শক্তি এসে ৭ নভেম্বর ঘটিয়ে দিয়ে গেছে! আর আওয়ামী লীগ একে দেখে প্রতিকূল ঘটনা হিসেবে। আওয়ামী লীগ পরিবারের কেউ কেউ ৩ নভেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা খালেদ মোশাররফকে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখে থাকেন। যেহেতু ৭ নভেম্বরের সিপাহি জনতার অভ্যুত্থানের প্রত্যক্ষ ফল ছিল খালেদ মোশাররফের ক্ষমতাচ্যুতি, তাই ৭ নভেম্বরকে তারা বৈরী ঘটনা হিসেবে চিত্রিত করেন। ৭ নভেম্বরের সিপাহি জনতার অভ্যুত্থানকে বুঝতে হলে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বোঝা দরকার। এ বিষয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে। সদ্য স্বাধীন দেশে ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রকাঠামো বদলে দিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলার জন্য বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যের জন্য কাঠামোগত প্রস্তাব তুলে ধরেন ছাত্রলীগ-শ্রমিক লীগ-কৃষক লীগ নেতৃত্ব। তারা ১৯৭০ সালে নির্বাচিত গণপরিষদ ভেঙে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সব দলের সমন্বয়ে বিপ্লবী জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। পাঁচ বছর বা অনুরূপ কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সে বিপ্লবী সরকার স্বাধীন দেশের উপযোগী করে রাষ্ট্রকাঠামো-অর্থনীতি- সংস্কৃতি-শিক্ষাসহ কাঠামো-উপরিকাঠামোর সব সংস্থা পুনর্গঠন সম্পন্ন করবে। প্রয়োজনে উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ছাত্রসমাজকে মুক্তিযুদ্ধের মতো সারা দেশে এ মহাকর্মযজ্ঞ সম্পাদনের নিয়োজিত করা হবে। এ ধরনের আরও অনেক প্রস্তাব ছিল, যা প্রস্তাবকারীদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন বই-পুস্তকে প্রকাশিত হচ্ছে। এ ধরনের জাতীয় ঐক্য গড়ে তুললে পাকিস্তানি ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা রাজনৈতিক বিভেদের সুযোগ নিয়ে দেশ পুনর্গঠনকে নস্যাৎ করার সুযোগ পাবে না। কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব এ প্রস্তাবকে গ্রহণ করল না। তারা সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করার নামে কার্যত রাজনৈতিক বিভেদের সুযোগ সৃষ্টি করল। আর মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত দেশি-বিদেশি মহল এ সুযোগটিরই অপেক্ষায় ছিল। বিভেদকামী পরাজিত শক্তি একদিকে সরকারের অভ্যন্তরে ভোল পাল্টানো পাকিস্তানি সামরিক, বেসামরিক প্রশাসনের প্রতিভূদের মাধ্যমে প্রতিবাদী প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তির ওপর চরম দমন-নিপীড়ন চালিয়েছে, অন্যদিকে অর্থনীতি ও জনগণের মনোবলকে ভেঙে দেওয়ার জন্য নানা অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালিয়ে তা বিরোধী দলের ওপর চাপাতে লাগল।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব যখন ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক নেতাদের বিপ্লবী জাতীয় সরকার ও বিপ্লবী জাতীয় পুনর্গঠনের প্রস্তাব গ্রহণ না করে সনাতনী শাসনব্যবস্থা বহাল রাখার উদ্দেশ্যে সংসদীয় ব্যবস্থা চালু করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিল, তখন প্রতিবাদী ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক নেতারা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং তাদের প্রস্তাবের পক্ষে জনমত গঠন ও আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন। ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর ঘোষণা এলো নতুন রাজনৈতিক দলের, জন্ম নিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (যা এখন বাংলাদেশ জাসদ নামে পরিচিত)। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে প্রায় আড়াইশ সংসদীয় আসনে। ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক কারসাজিতে তাদের মাত্র একটি আসনে জিততে দেওয়া হয়। অথচ আরও ১০টিরও অধিক আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল প্রার্থীরা জয়লাভ করেছিলেন। অন্যান্য বিরোধী দলের প্রার্থীরাও বেশ কয়েকটি আসনে জিতেছিলেন। এমনকি গণমাধ্যমে বিজয়ের খবর প্রচারিত হলেও পরে নির্বাচন কমিশন সেসব আসনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর জয়ের ঘোষণা করে। এর তাৎপর্য হলো এই যে, সংসদীয় ব্যবস্থায় বহুদলীয় গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে বিপ্লবী জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি, কিন্তু বহুদলীয় গণতন্ত্রকে কাজ করতে দেওয়া হলো না। বিরোধী মতকে তৎকালীন সরকার মোটেও সহ্য করতে রাজি ছিল না। আর স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল সংগঠক হওয়ার কারণে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের নেতৃত্বের মধ্যেও একটা আস্থার ভাব ছিল এই ভেবে যে, তারা যেভাবে ঔপনিবেশিক পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পুরো জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে শামিল করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছেন, তেমনি স্বাধীন বাংলাদেশে সামাজিক বিপ্লব সফল করতেও তারা সক্ষম হবেন। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের বক্তব্য ও আন্দোলনের ধার ছিল খুবই তীব্র ও তীক্ষ্ণ। বুর্জোয়াদের স্বার্থরক্ষক হিসেবে চিহ্নিত করে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের স্তরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বকেই প্রধান দ্বন্দ্ব হিসেবে চিহ্নিত করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল। সংসদীয় রাজনীতিই শুধু নয়, এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও ছাত্রলীগের (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র) নিশ্চিত বিজয়কে রুখে দিতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ডাকসুর ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে। অন্যান্য বেশ কয়েকটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও ক্ষমতাসীনদের সমর্থকরা ব্যালট বাক্স ছিনতাই করে। ১৯৭৪ সালের ১৭ মার্চ তদানীন্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচিকে সরকারের রক্ষীবাহিনীর রক্তাক্ত পথে মোকাবিলা করে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কারাগারের বাইরে থাকা নেতৃত্ব তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে মিলিত হন। খসড়া থিসিস প্রণয়ন করে সরকার হটানোর লক্ষ্যে গণ-অভ্যুত্থানমূলক আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে গণতান্ত্রিক জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে সামনে আনেন। জাসদের কাছে সংসদীয় রাজনীতির গুরুত্ব পেছনে চলে যায়। ১৯৭৪ সালের শেষদিকে জরুরি অবস্থা জারি এবং ১৯৭৫ সালের শুরুতে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলসহ সব বিরোধী দল নিষিদ্ধ হয়ে যায়। তখন গোপনে সংগঠনের কাজ পরিচালনার জন্য বিপ্লবী পার্টি প্রক্রিয়া মূল ভূমিকায় চলে আসে। কোনো কোনো অঞ্চলে বিপ্লবী গণবাহিনী সক্রিয় হয়। উল্লেখ্য, কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে বিপ্লবী গণবাহিনী গড়ে না উঠলেও ১৯৭৫ সালে বহু জেলায় বিপ্লবী পার্টি প্রক্রিয়ার গোপন কাঠামোর পাশাপাশি গণবাহিনীর কাঠামো গঠিত হয়। তবে বিপ্লবী গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক জাতীয় সরকার গঠনের কৌশল অপরিবর্তিত থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ঘটে যায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও রক্তাক্ত সামরিক ক্যু-দেতা। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল একে মার্কিন ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করে এবং সামরিক শাসনকে আওয়ামী লীগের শাসনের চেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল ও সাম্রাজ্যবাদনির্ভর বলে মূল্যায়ন করে। গোপন পার্টি প্রক্রিয়া ও গণবাহিনী নেতৃত্ব দ্রুত বৈঠকে বসে বিপ্লবী গণ-অভ্যুত্থান গড়ে তোলার চলমান কৌশলকে এক মুহূর্তের জন্যও বিরতি না দিয়ে খন্দকার মোশতাকের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে তাকে আরও তীব্র করার সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল তথা পার্টি প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব ১৫ আগস্টের সামরিক ক্যু-দেতাকে বাংলাদেশে আসন্ন বিপ্লবের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করার সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র বলে চিহ্নিত করে। সামরিক সরকার শক্ত ও স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছার আগেই তাকে গণ-অভ্যুত্থানের আঘাতে পতন ঘটানোর লক্ষ্য স্থির করে পার্টি প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর আবার সামরিক ক্যু-দেতা ঘটলে জাসদ পার্টি প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব একই ধরনের মূল্যায়ন করে, যা খন্দকার মোশতাকের সামরিক সরকারের ব্যাপারে করেছিল।

এবার কর্নেল আবু তাহেরের প্রসঙ্গে আসি। ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর যে পটভূমি ও উদ্দেশ্য নিয়ে জাসদের জন্ম হয়েছিল, প্রায় একই ধরনের পটভূমি ও লক্ষ্য নিয়ে কর্নেল আবু তাহের স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীকে একটি গণতান্ত্রিক উৎপাদনশীল গণবাহিনীতে রূপান্তরের চেষ্টা চালান, অতঃপর ব্যর্থ হয়ে সেনাবাহিনী ত্যাগ করে জাসদের বিপ্লবী প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন। তিনি বিপ্লবী প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্তক্রমে গণবাহিনী পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৩ নভেম্বরের সামরিক ক্যু-দেতার পর সৈনিকদের মধ্যে প্রচণ্ড অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। বারবার সামরিক অভ্যুত্থানে সৈনিক-জনতা ছিল তিক্তবিরক্ত, অন্যদিকে ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের আশঙ্কার গুজব। পরিস্থিতি ছিল খুবই বিপজ্জনকভাবে বিস্ফোরণোন্মুখ। কর্নেল আবু তাহের জাসদ বিপ্লবী প্রক্রিয়া অনুসৃত বিপ্লবী গণ-অভ্যুত্থানের কৌশল অনুযায়ী বিক্ষুব্ধ ও অসংগঠিত সৈনিকদের একটা শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে এসে ৭ নভেম্বর প্রত্যুষেই সুশৃঙ্খল সৈনিক-জনতার অভ্যুত্থান সংঘটিত করার পরিকল্পনা জাসদ বিপ্লবী প্রক্রিয়ার কাছে পেশ করেন ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায়। পার্টি প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব জনগণকে প্রস্তুত করার জন্য আরও সময় নেওয়ার কথা বলেন এবং সে অনুযায়ী ১০ নভেম্বর ১৯৭৫ সোমবার দেশব্যাপী হরতাল আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, তখন সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল রবিবার। কিন্তু কর্নেল আবু তাহের ক্যান্টনমেন্টে সৈনিকদের মধ্যে অস্থিরতার কারণে সৃষ্ট জটিল পরিস্থিতিতে খন্দকার মোশতাক-রশিদ-ফারুক-ডালিম চক্র ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের চেয়েও আরও ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে বলে নেতাদের জানালেন। অনেকটা ১৯৬৬ সালে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় এক লাখের মতো প্রগতিশীল মানুষকে গণহত্যার মতো পরিকল্পনা ও আশঙ্কার কথা তারা বলেছিলেন। নেতারা অনেক আলোচনার পর ৭ নভেম্বরেই সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান সংঘটিত করার অনুমোদন দেন। এরপরের ঘটনা আজ আর বিস্তৃত করছি না। ৭ নভেম্বরের সৈনিক-জনতার অভ্যুত্থানের বারুদাগারে দেশলাই ঠুকেছিল ভারতীয় হস্তক্ষেপের কাল্পনিক আশঙ্কা। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন দেশের মানুষ এবং বিশেষ করে জাতীয় প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা এ বিষয়ে খুবই স্পর্শকাতর ছিল। আজও কমবেশি একই ধরনের স্পর্শকাতরতা রয়েছে, হয়তো ১৯৭৫-এর মতো অতটা হুজুগে নয়। সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় নজরদারি করার জন্য রাডার স্থাপন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর নিয়ে নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের পত্রপত্রিকাতে এ বিষয়ে নানা খবর প্রকাশিত হলেও বাংলাদেশে এ নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা নেই। এসব স্পর্শকাতর বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা না হলে তা নানা গুজবের ডালপালা সৃষ্টি করবে। তা যেমন আমাদের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করবে, অন্যদিকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পরীক্ষিত বন্ধুর বিরুদ্ধে মানুষকে অযথা বিষিয়ে তুলবে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে এক শ্রেণির মানুষের তীব্র বিদ্বেষপ্রসূত গুজব, যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও সংক্রমিত হয়েছিল। এ সুযোগ নিয়েছে প্রতিক্রিয়াশীল ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী, যার জের জাতিকে বহুদিন টানতে হচ্ছে। আজ যেন আবার আমরা একই ভুল ও একই পরিণতি ডেকে না আনি। ৭ নভেম্বর থেকে অন্তত আমরা যেন এটুকু হলেও শিখি।

লেখক

বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য ডাকসুর সাবেক জিএস

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত