কুড়িগ্রাম পৌরসভায় ১২ পদে কর্মী নিয়োগ ফের স্থগিত চান সাংসদ

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৯, ০১:৩৬ এএম

কুড়িগ্রাম পৌরসভায় ১২টি শূন্যপদে কর্মী নিয়োগে ২০১৪ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা ফের আহ্বানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য (সদর, রাজারহাট ভূরুঙ্গামারী) পনির উদ্দিন আহমেদ ওই নিয়োগ স্থগিতে ফের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের কাছে লিখিত অনুরোধ জানিয়েছেন।

সাংসদ পনির উদ্দিনের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম পৌরসভা অবহেলিত ও সমস্যাসঙ্কুল। বর্তমানে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী পৌরসভায় কর্মরত আছেন তাদেরই বেতন-ভাতা নিয়মিত দেওয়া সম্ভব হয় না।

তার ওপর নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হলে পৌরসভার পক্ষে সেটা বহন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তার নির্বাচনী এলাকার ওই পৌরসভায় হিসাবরক্ষক, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক, সহকারী কর আদায়কারী, নিমœমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরসহ ১২টি শূন্য পদে কর্মী নিয়োগে ২০১৪ সালে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পৌরসভার আর্থিক সঙ্কুলান না থাকার পরও মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ওই নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। এতে প্রকৃত মেধাবীরা চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। তা ছাড়া ওই নিয়োগে স্থানীয় সরকার বিভাগের ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। তাই ওই নিয়োগ স্থগিত রাখতে সাংসদ পনির উদ্দিন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেন। সে অনুযায়ী মন্ত্রণালয় নিয়োগ স্থগিত রাখে। কুড়িগ্রাম পৌরসভার মেয়র আবদুল জলিল ও পৌরসভার সচিব রেজাউল করিমসহ একটি অসাধু চক্র প্রতিটি পদের বিপরীতে ৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। গত শুক্রবার দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, ২০১৪ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী উল্লিখিত পদগুলোয় কর্মী নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা আহ্বান করা হয়েছে।

এতে ১০ অক্টোবর (আজ রবিবার) ওই লিখিত পরীক্ষার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় ছয় বছর আগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে পরীক্ষা আহ্বানে সাধারণ মানুষ ও নিয়োগ প্রত্যাশীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা নতুন করে আবেদন করার সুযোগ দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার মেয়র আবদুল জলিল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০১৪ সালের ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ওপর মন্ত্রণালয়ের স্থগিতাদেশ ছিল। মন্ত্রণালয় বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে নিয়োগের বিষয়ে ছাড়পত্র দিয়েছে।’ ছয় বছর আগের বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই সময় প্রার্থীরা ব্যাংক ড্রাফটসহ আবেদন করেছেন। তাই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।’ নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কোনো নিয়োগ হলেই কেউ কেউ কোটি কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন। এসব অভিযোগ সঠিক নয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত