ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এর প্রভাবে শীতকালীন সবজি ও আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। শনিবার ও রবিবার দুই দিনের বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার ফলে ফসলের এই ক্ষয়ক্ষতি হয়।
দেশ রূপান্তরের নোয়াখালী ও চাঁদপুর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে দেখা যায়- ঝড়ে শীতকালীন সবজি ও আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি জোয়ারের পানি ঢুকে অনেক স্থানে চাষের মাছ ভেসে গেছে।
সরেজমিনে রোববার দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার গাছতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জমিতে শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। লালশাক, পালংশাক, বেগুন, মুলাসহ বিভিন্ন সবজিগাছ প্রচণ্ড বাতাসে কাত হয়ে জমিতে পড়ে রয়েছে। এ ছাড়া দুই দিন যাবৎ বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে শীতকালীন সবজি ও আমন ফসলের নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
গাছতলা এলাকার কৃষক মো. মনিরুজ্জামান পাটওয়ারী বলেন, আমি এবার পাঁচ একর জমিতে শীতকালীন বিভিন্ন ধরনের বীজ লাগিয়েছি। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুল-এর কারণে আমার শীতকালীন সবজি খেত নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক গাছ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। গাছের গোড়ায় পানি জমে ও বাতাসে ডালপালা ভেঙে গেছে।
মনিরুজ্জামান জানান, শীতকালীন ফসল আবাদ করতে গিয়ে তিনি এবার এক লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। ঝড়ে তিনি বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হলেন। সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সহায়তা করে তাহলে তারা উপকৃত হবেন।
একই এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম পাটওয়ারী ও বিল্লাল হোসেন জানান, দুই দিনের বৃষ্টিতে ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। শীতকালীন সবজি ছাড়াও আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে জমিতে পানি জমে আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. কবির হোসেন জানান, ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে শীতকালীন সবজি ও আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এর সঠিক পরিমাণ এখনো নির্ণয় করা যায়নি।
তিনি জানান, এবার জেলার ৫ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু দুই দিনের ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে সবজি খেতের ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া এবার ৪ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, বৃষ্টিতে ২শ’ ৫০ হেক্টর জমির সরিষা নষ্ট হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এবার জেলায় ২৫ হাজার ৯শ’ ৭৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ঝড়ের কারণে আমন খেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় আমন ধান,খেসারি,সবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জোয়ারের পানি ঢুকে অনেক মাছও ভেসে গেছে।
হাতিয়ার পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর পাশের মেঘনা এবং দক্ষিণে মেঘনা এখনো উত্তাল রয়েছে। চার পাশের জোয়ের পানি এসে উপকূলে আছাড় খেয়ে পড়ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, আমন ধান, খেসারি, শীতকালীন সবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফরিদ হোসেন জানান জোয়ারের পানি ঢুকে শত শত পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
