পৃথিবীতে এমন অনেক রহস্য আছে, যার সমাধান হয়নি। কিছু রহস্য বিস্ময় জাগায়। জলজ্যান্ত মানুষ উধাও হয়ে যাওয়ার কিছু উদাহরণ রয়েছে। রহস্যময়ভাবে মৃত্যুবরণকারী ও নিখোঁজ মানুষদের গল্প নিয়ে লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
একসঙ্গে উধাও ২৫০০ মানুষ!
১৯৩০ সালে নভেম্বর মাসের এক শীতের রাত। চাঁদের আলোয় আশপাশের পরিবেশ বেশ আলোকিত। সে রাতে কানাডার নুনাভুত এলাকার আঞ্জিকুনি লেকে গিয়েছিলেন কানাডিয়ান পশু শিকারি জো লেবেল। কিন্তু গ্রামে প্রবেশের পরই জো বুঝলেন সেখানে কোনো একটা গ-গোল ঘটছে। এই গ্রাম সে গ্রাম নয়, যেখানে তিনি আগে এসেছিলেন। কারণ গ্রামে গিয়ে তিনি মানুষ তো দূরের কথা, কোনো একটা পশুপাখিরও সন্ধান পাননি! কিন্তু জো জানেন এই গ্রাম এমন প্রাণিশূন্য হওয়ার কথা নয় মোটেও। কারণ এর আগেও তিনি পশু শিকার করতে এসে এই গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন এবং এখানে অন্তত আড়াই হাজার মানুষের বসবাস ছিল। সবাই তাকে দারুণ ভালোবাসায় অভ্যর্থনা জানাতো। কিন্তু ব্যতিক্রম ঘটল শুধু সেবারই।
পুরো গ্রামে কারও দেখা না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লেন জো। তিনি গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি ঘুরে দেখতে লাগলেন কোনো মানুষ কিংবা প্রাণীর দেখা পাওয়ার আশায়। কোনো প্রাণের অস্তিত্ব না পেলেও জো যা দেখলেন তাতে তার বিস্ময়ের ঘোর কাটছিল না। প্রতিটি বাড়িতে প্রতিটি জিনিসই তার নিজ নিজ জায়গায় রাখা। যেন কেউ সেগুলো রেখে বাইরে গেছে, এখনই ফিরে আসবে! টেবিলে খাবার সাজানো, ঘরে কাপড় রাখা, এমনকি দরজার পাশে রাইফেলও রাখা। যেগুলো ছাড়া তারা কখনোই বাইরে যায় না হিংস্র প্রাণীর মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে। তিনি আরও দেখলেন, নিভে যাওয়া আগুনের ওপর খাবারের পাত্র রাখা অর্থাৎ সেখানে খাবার রান্না করছিল কেউ, সব বাড়ির পাশে কায়াক (পাতলা কাঠের ছোট নৌকা) বেঁধে রাখা। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে বরফের ওপর কোনো পায়ের ছাপ ছিল না যা দেখে বোঝা যাবে যে তারা কোথাও গিয়েছে।
বিস্মিত জো লেবেল পার্শ্ববর্তী টেলিগ্রাফ অফিস এবং কানাডিয়ান মাউন্টেন পুলিশকে এই ঘটনা সম্পর্কে জানান। পুলিশ এসে পুরো গ্রাম তন্ন তন্ন করেও কাউকে খুঁজে পায়নি। কিন্তু তারা যা দেখল, তাতে বিস্ময়ের মাত্রা যেন আরও বেড়ে গেল। গ্রামের প্রতিটা কবর খালি ছিল। গ্রাম থেকে কিছু দূরে তারা সাতটি সেøজ কুকুরের লাশ দেখতে পান যেগুলো দেখেই বোঝা যাচ্ছিল খাবারের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে। আর সবগুলোই ছিল বরফ দিয়ে চাপা দেওয়া।
আশপাশের গ্রামের অধিবাসীরা জানাল, ওই রাতে তারা একটি নীল আলো দেখতে পেয়েছিলেন যেটি ধীরে ধীরে অন্ধকারে মিলিয়ে যায়। এ নিয়ে অনেক তদন্ত হয়। তেমন কোনো তথ্য উদঘাটন করতে না পারলেও জানা যায়, যে রাতে জো ওই গ্রামে গিয়েছিলেন, তারও অন্তত দুই মাস আগে গ্রামের সব লোক নিখোঁজ হয়। কেন এবং কীভাবে একটি গ্রামের এতগুলো মানুষ একসঙ্গে অদৃশ্য হলো সেই বিষয়ে আজও কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
হারিয়ে যাওয়া পাঁচ ভাইবোন
চার দশক আগেও যদি কেউ ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ফেয়াটভিলে বেড়াতে গেলে সেখানে তারা হারিয়ে যাওয়া পাঁচ ভাইবোনের ছবিসহ একটা বড় বিলবোর্ড দেখতে পেত। কালো চুল আর গম্ভীর চোখের পাঁচ ভাইবোনের নাম ছিল- মরিস (১৪), মার্থা (১২), লুইস (৯), জেনি (৮) এবং বেটি (৫)। কীভাবে তারা একসঙ্গে নিখোঁজ হলো সেই রহস্যের সমাধান হয়নি আজও।
একটি বড় রাস্তাসহ মাত্র ১০০ একর জায়গা জুড়ে ছিল ফেয়াটভিলে শহরটির অবস্থান। এই শহরেই ১৯৪৫ সালে ক্রিসমাসের আগের রাতে নিজ বাড়ি থেকে একসঙ্গে নিখোঁজ হয় পাঁচ ভাইবোন। তারা জীবিত না মৃত সেই বিষয়ে আজও সঠিক কোনো তথ্য মেলেনি।
জর্জ সোডার আর জেনি সোডারের দশ সন্তানের মাঝে নয়জনকে নিয়ে বাস করতেন সে শহরে। এক সন্তান ছিল আর্মিতে। সে রাতে ১টার দিকে বাড়িতে আগুন লাগে। জর্জ এবং জেনিসহ চার সন্তান আগুনের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারলেও বাকি পাঁচ সন্তানের খোঁজ মেলেনি কখনো। বাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে, হাতের চামড়া পুড়িয়ে জর্জ চেষ্টা করেছেন সবাইকে বাঁচাতে। আগুন আর ধোঁয়ায় তিনি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। নিচতলার বসার ঘর, খাওয়ার ঘর, রান্নাঘর, অফিস আর জর্জ-জেনির শোয়ার ঘরের সব জায়গায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল ভয়াবহভাবে। তার ঘরে দোলনায় শুয়ে থাকা দুই বছরের সিলভিয়াকে তিনি বাঁচাতে পেরেছিলেন। দোতলার ঘরে একসঙ্গে থাকা ম্যারিয়ন (১৭), জন (২৩) এবং জর্জ জুনিয়র (১৬) কোনোরকম আগুনের হাত থেকে বেঁচে ফিরেছিল। কিন্তু হলরুমের শেষ প্রান্তের রুমে থাকা মরিস, মার্থা, লুইস, জেনি আর বেটিকে তিনি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তিনি তাদের ঘরে যেতে পারছিলেন না কারণ সেখানে যাওয়ার সিঁড়িতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছিল।
মই দিয়ে ওপরে উঠে বাচ্চাদের বাঁচানোর চেষ্টায় তিনি দৌড়ে বাড়ির পেছনে গেলেন। সবসময় ওঠানামার জন্য রাখা মইটি সে সময় সেখানে ছিল না। কয়লাভর্তি ট্রাক নিয়ে তিনি জানালার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করলেন কিন্তু একদিন আগেও ঠিকঠাক মতো চলা ট্রাকটি সে সময় স্টার্টই নিল না। তিনি দৌড়ে গেলেন বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখা ব্যারেলের দিকে কিন্তু সে সময় সেটাও জমে বরফ হয়ে ছিল। পাঁচ সন্তান ঘরের ভেতর আগুনে পুড়ে যাচ্ছে এটা বুঝেও তাদের বাঁচাতে না পেরে চিৎকার করে যাচ্ছিলেন জর্জ। সন্তানদের বাঁচানোর চেষ্টায় মরিয়া জর্জ একবার খেয়াল করেননি সে সময় তার হাত থেকেও ঝরছিল রক্ত।
প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে জর্জের মেয়ে ম্যারিয়ন ফেয়াটভিলের ফায়ার ডিপার্টমেন্টে ফোন করেও কোনো অপারেটরকে পাননি। এমনকি আগুনের তীব্রতা দেখে একজন প্রতিবেশী ফোন করেছিলেন। কিন্তু তাতেও মেলেনি সাড়া। শেষ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে আসেন সকাল ৮টায়। ততক্ষণে জর্জের বাড়ির প্রতিটি কাঠ পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। সবাই ধরেই নিয়েছিল আগুনে পুড়ে একসঙ্গে পাঁচ ভাইবোনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তদন্ত করে সেখানে কারও পুড়ে যাওয়া দেহের কোনো ধ্বংসাবশেষ বা হাড় পাওয়া যায়নি।
জর্জ আর জেনি তখনো বিশ্বাস করতেন তাদের সন্তানেরা বেঁচে আছে। কেউ হয়তো তাদের কোথাও দেখে থাকতে পারে এই বিশ্বাসে তারা ফেয়াটভিলেতে পাঁচ ভাইবোনের ছবিসহ একটি বড় বিলবোর্ড টানিয়েছিলেন। সেই ছবিগুলো দেখার পর তাদের বেঁচে থাকা নিয়ে অনেক কথা ছড়ানো হয়। যেখানেই যার কাছে যেটুকু তথ্য মিলত জর্জ ছুটে যেতেন সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আশায়। ১৯৬৮ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জর্জ বিশ্বাস করতেন তার সন্তানেরা সবাই বেঁচে আছে। জর্জের মৃত্যুর ২০ বছর পর মারা যান তার স্ত্রী জেনি। সন্তানরা হারিয়ে যাওয়ার সে রাতের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সন্তানদের শোকে কালো পোশাক পরিধান করেছেন তিনি।
গিরিপথ দুর্ঘটনায় ডিয়েটলোভ ও তার দল
১৯৫৯ সালের ৩১ জানুয়ারি ২৩ বছর বয়সী ইগর এলেকসেইয়েভিচ ডিয়েটলোভ নামে একজন স্কি হাইকার রাশিয়ার দক্ষিণ ইউরালসের অটোরটেন পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছানোর জন্য যাত্রা শুরু করেন। তার সঙ্গে আরও যোগ দিয়েছিল ইউরাল পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অভিজ্ঞ আট হাইকার। রওনা দেওয়ার আগে, ডিয়েটলোভ তার স্পোর্টস ক্লাবকে জানিয়েছিলেন টিমসহ সেখানে পৌঁছে তারা যত দ্রুত সম্ভব টেলিগ্রাম করবেন। কিন্তু তাদের মাঝে কোনো হাইকারকেই পরবর্তী সময়ে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।
ধারণা করা হয়, তাদের সবার মৃত্যু হয় ১ ফেব্রুয়ারি। তাদের মৃত্যুস্থল থেকে উদ্ধার করা ক্যামেরা এবং ডায়েরি থেকে জানা যায়, হাইকিং টিম নামবিহীন একটি গিরিপথ দিয়ে অটোরটেনের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে পাহাড়ে যাওয়ার পথে তারা তুষার ঝড়ের কবলে পড়ে রাস্তা হারিয়ে ফেলে। পরে তারা নিজেদের আবিষ্কার করে একদম দক্ষিণে আরেকটি পাহাড়ের কাছে। যে পাহাড়টি পরিচিত ছিল ‘মৃত পাহাড়’ নামে।
সে পাহাড়ে বাস করত মানসি নামে এক জাতি। রাস্তা হারিয়ে ফেলেই হোক অথবা অটোরটেনে যাওয়ার আগে নতুন অভিজ্ঞতা নেওয়ার আগেই হোক, ডিয়েটলোভ তার দল নিয়ে সেখানেই ক্যাম্প তৈরি করেন। নির্জন এই পাহাড়ই নয়জন হাইকারের জন্য দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু বয়ে আনে।
ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখ পর্যন্তও যখন স্কি হাইকারদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি তখন তাদের খোঁজে পাহাড়ে আরেকটি দল পাঠানো হয়। স্বেচ্ছাসেবকরা যখন জানান, নিখোঁজ হাইকারদের ক্যাম্প খুঁজে পাওয়া গেছে কিন্তু তারা সবাই নিখোঁজ। তখন তাদের খোঁজে সেখানে পুলিশ এবং আর্মি পাঠানো হয়। সবাই যখন পাহাড়ে পৌঁছাল কেউই তাদের জীবিত পাওয়ার আশা করেনি। যদিও সবাই অভিজ্ঞ হাইকার ছিল তবু তারা যে কঠিন পথ বেছে নিয়েছিলেন এবং পাহাড়টি সম্পর্কে শোনা দুর্ঘটনা থেকে সবাই ধরেই নিয়েছিল এখানে পাওয়া যাবে না কাউকেই। তারা শুধু কিছু নিথর দেহ খুঁজছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তারা যা দেখলেন তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না।
ক্যাম্পসাইটে পৌঁছানোর পর দেখা গেল তাদের তাঁবু ভেতর থেকে কাটা কিন্তু দলের সবার পোশাক এবং জুতা সেখানেই রয়েছে। কিছুদূরেই তারা বরফের ওপর খুঁজে পেল আট বা নয় জোড়া পায়ের ছাপ। তাদের সবার একসঙ্গে খালি পায়ে বরফের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া পায়ের ছাপ ধরে এগিয়ে ক্যাম্প থেকে মাইলখানেক দূরে বনের ধারে পৌঁছান তারা। সেখানেই তারা জুরি ক্রিভোনিচেনকো (২৩) এবং জুরি দরোসেনকো (২১) নামের দুজন হাইকারের লাশ খুঁজে পায়। মাইনাস ১৩-২২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের সে আবহাওয়ায় দুই মৃতদেহের পায়ে কোনো জুতা তো ছিলই না এমনকি অন্তর্বাস ছাড়া আর কোনো পোশাকও ছিল না। পরে খুঁজে পাওয়া যায় ডিয়েটলোভ, জিনাইদা কলমোগোরভা (২৪) এবং রুস্তিম সেøাবোডিনের (২৩) লাশ। শরীরে কোনো ধরনের জখম ছিল না বলে ধরে নেওয়া হয় তারা সবাই মারা গিয়েছিলেন হাইপোথারমিয়ায়। কিন্তু বাকি চারজনের লাশ খুঁজে পাওয়ার পর এই ধারণা বদলে যায়।
বাকি চারজনের লাশ পাওয়া যায় দেবদারু গাছের ৭৫ মিটার নিচে কাঠ দিয়ে চাপা দেওয়া অবস্থায়। তাদের লাশের অবস্থা দেখে সবাই মানতে বাধ্য হয়েছিলেন যে সেখানে স্বাভাবিক কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনজন হাইকারের শরীরে ছিল গভীর আঘাত। ২৩ বছর বয়সী নিকোলাই থিবিক্স ব্রিগনোলসের মাথায় ছিল গুরুতর আঘাত। লিউডমিলা দুবিনিনা (২০) এবং সিমন জলোতারইয়োভের (৩৮) বুকের হাড় এমনভাবে ভেঙেছিল যে কোনো গাড়ির দুর্ঘটনায় যেমনভাবে হয়। এমনকি দুবিনিনার জিহ্বা, চোখ, ঠোঁটের অংশ, মুখের চামড়া তুলে ফেলা অবস্থায় ছিল। গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গিয়েছিল তার মস্তিষ্কের হাড়। একই জায়গায় কোনো ধরনের আঘাত ছাড়া পাওয়া যায় আলেক্সান্ডার কোলেভাতোভের (২৪) লাশ।
ধারণা করা হয়, দুদলের মৃত্যু হয় দুই সময়ে। কারণ এই দলের সবার পরনেই পোশাক ছিল। শুরুতে ভাবা হয়েছিল হয়তো সেখানে বসবাস করা মানসি জাতির হাতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তারা ছিল খুবই শান্ত প্রকৃতির মানুষ। আর সেখানে হাইকাররা ছাড়া আর কারও পায়ের ছাপও পাওয়া যায়নি। কীভাবে এত নৃশংসভাবে এতগুলো মানুষের মৃত্যু হয়েছিল সে বিষয়ে এখনো সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফ্লানান লাইট হাউজের নিখোঁজ তিন
বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ফ্লানান লাইট হাউজ নামে স্কটিশ লাইট হাউজটি দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন জেমস ডুকাট, ডোনাল্ড ম্যাক আর্থার এবং থমাস মার্শাল নামে তিন নিরাপত্তাকর্মী। কিন্তু ১৯০০ সালের ১৫ ডিসেম্বর যখন স্টিমার ‘আর্কটর’ ডুবে যায় সঙ্গে সঙ্গে নিভে যায় লাইটহাউজের আলোও। নিরাপত্তাকর্মীরা নিখোঁজ হয়ে যান।
একইসঙ্গে সেইদিনের রেকর্ড থেকে জানা যায়, লাইট হাউজে তারা যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করেছেন, রেলের ট্র্যাক ঠিক করেছেন। এর মানে সেদিন সেখানে এমন কিছু হয়েছিল যার কারণেই নিখোঁজ হন তারা। ২৬ ডিসেম্বর যখন লাইট হাউজের আলো না জ্বলার কারণ খুঁজতে সেখানে যাওয়া হয়, দেখা যায়- কিছু অদ্ভুত দৃশ্য। লাইট হাউজে বিছানা এলোমেলো অবস্থায় ছিল, উল্টানো চেয়ার পড়েছিল মেঝেতে, ছিল বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি ঘড়ি এবং একজন নিরাপত্তাকর্মীর পোশাক যা দেয়ালে তখনো ঝুলছিল। ধারণা করা হয়, তারা হয়তো সমুদ্রে ভেসে গেছেন। কিন্তু যেখানে লাইট হাউজের বাইরে যাওয়ার অনুমতি মাত্র একবার মিলত সেখানে কীভাবে তিনজন একসঙ্গে সমুদ্রে তলিয়ে গেলে সে রহস্য আজও রয়ে গেছে।
