প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ পরবর্তী প্রজন্মকে গুণগত উন্নয়নের স্বপ্ন দেখাচ্ছে বলে মনে করেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। গতকাল সোমবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সরকার এরকম দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ নেয়নি,
যেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক সময়ে নিয়েছেন। এ পদক্ষেপ রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।’
একটি হোটেলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ইউনাইটেড ডেলকট ওয়াটার লিমিটেডের মধ্যে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহরে পানি বিতরণ ও সরবরাহ সুবিধার উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ইউনাইটেড ডেলকট ওয়াটার লিমিটেডের মধ্যে ওই চুক্তি হয়। রাজউকের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ এবং ইউনাইটেড ডেলকট ওয়াটার লিমিটেডের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ফিলিপ ওয়েই জিং ইউ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলকামা সিদ্দিকী।
শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশের তুলনায় ভালো। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য সরকার নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশে ১০০টির অধিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠছে, যার অধিকাংশই বিদেশি বিনিয়োগের জন্য করা হচ্ছে। তাই শুধু আলোচ্য প্রকল্পেই নয়, যেকোনো প্রকল্পে বিনিয়োগে আমি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি আমার মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন দপ্তর সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন দেশের উন্নয়নে কাজ করি, নিজের উন্নয়নে নয়। আসুন শেখ হাসিনার স্বপ্নকে আমরা অনুসরণ করি। দায়িত্ব পালনে সততার সঙ্গে কাজ করি।’ গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ মানুষের উন্নয়নে আমাদের কাজ করতে হবে, কারণ তাদের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার এ দেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। দেশে যেকোনো উন্নয়ন হতে হবে টেকসই উন্নয়ন। উন্নয়ন টেকসই না হলে ভবিষ্যতে তা আমাদের কোনো কাজে আসবে না।’
রাজউক কর্মকর্তারা জানান, ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা অনুযায়ী পূর্বাচল নতুন শহরে ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন জনসংখ্যার পানির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজউকের বাস্তবানাধীন এ প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৩ সাল পর্যন্ত। এখানে পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের সময় ধরা হয়েছে ২০২০ থেকে ২০৩৩ সাল। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯২ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহরে পানি সরবরাহ করার জন্য বিভিন্ন সেক্টরে ১৫টি গভীর নলকূপ এবং ৩২০ কিলোমিটার রোড অ্যালাইনমেন্ট ধরে পাইপলাইনের নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে।
