লতিফ সিদ্দিকীর জামিন আটকে গেল সর্বোচ্চ আদালতে

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:১৭ এএম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে ছয় মাসের জামিন দিয়ে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিল তা ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে দুদকের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ আদেশ দেয়।

সর্বোচ্চ আদালতের এ আদেশের ফলে লতিফ সিদ্দিকীকে আপাতত কারাগারেই

থাকতে হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।

দুদকের কৌঁসুলি খুরশিদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আপিল বিভাগ লতিফ সিদ্দিকীর জামিন ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করে এই সময়ের মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে দুদককে লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি) আবেদন করতে বলেছে।

বগুড়ার আদমদীঘিতে পাটকল করপোরেশনের জমি দরপত্র ছাড়াই নামমাত্র মূল্যে বিক্রির অভিযোগের এ মামলায় গত ২০ জুন বগুড়ার সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে লতিফ সিদ্দিকীর জামিন নামঞ্জুর হলে হাইকোর্টে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন তিনি। পরে দুবার হাইকোর্টে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হন। ৪ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ লতিফ সিদ্দিকীকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়। এরপর ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করে দুদক। ৭ নভেম্বর চেম্বার আদালত বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়।

টাঙ্গাইল-৪ আসনে আওয়ামী লীগদলীয় সাবেক সাংসদ লতিফ সিদ্দিকী ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সরকারের পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে  ছিলেন। আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের জমি দরপত্র ছাড়াই কম মূল্যে বিক্রির অভিযোগে ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর দুদকের বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় লতিফ সিদ্দিকীসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অন্য আসামি হলেন জমির ক্রেতা বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকার জাহানারা রশিদ। 

মামলায় অভিযোগ, ওই পাটকল করপোরেশনের রানীনগর পাট ক্রয় কেন্দ্রের ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৫ টাকা মূল্যমানের প্রায় আড়াই একর জমি দরপত্র ছাড়াই ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৪ টাকায় বিক্রি করেন লতিফ সিদ্দিকী। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। তদন্ত শেষে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় দুদক।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত