বেনাপোল কাস্টম হাউসের ভল্ট ভেঙে ২০ কেজি স্বর্ণ লুট

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:৪৪ পিএম

বেনাপোল কাস্টম হাউসের নিরাপদ গোপনীয় ভল্ট ভেঙে ২০ কেজি স্বর্ণ লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে ডলার ও টাকা-পয়সা খোয়া যায়নি বলে তদন্তে নিশ্চিত করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

সোমবার রাত ১১টার দিকে বেনাপোল পোর্ট থানায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

লুটের রহস্য উদ্‌ঘাটনে পোর্ট থানাসহ র‌্যাব, ডিবি, সিআইডি এবং পিবিআই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তকাজ সম্পন্ন করেছে।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী সাংবাদিকদের ২০ কেজি স্বর্ণ ‘চুরি যাওয়ার’ কথা স্বীকার করেছেন। লুট হওয়া স্বর্ণের বাজার মূল্য ১০ কোটি টাকা বলে কাস্টম সূত্র জানায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্র, শনি ও রবিবার ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটি থাকায় কেউ অফিসে ছিলেন না। সোমবার সকালে অফিস খুললে স্বর্ণ লুটের বিষয়টি ধরা পড়ে।

এ ঘটনায় কাস্টমসের যুগ্ম-কমিশনার শহিদুল ইসলামকে প্রধান করে নয় সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

ভল্ট ইনচার্জ শাহাবুল সর্দারসহ পাঁচজনকে বরখাস্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার এসএম শামীমুর রহমান জানান, পুরোনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় গোপনীয় একটি কক্ষের তালা ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা। সেই কক্ষে রক্ষিত লোহার ভল্ট ভেঙে ২০ কেজি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় তারা।

তিনি বলেন, ভল্টে মূল্যবান আরও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ, ডলার ও টাকা থাকলেও শুধু ২০ কেজি স্বর্ণ নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ভল্ট ভাঙার আগে দুর্বৃত্তরা সিসি ক্যামেরার সবগুলো সংযোগ কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

সোমবার বিকেল ৫টা নাগাদ ডিবি, সিআইডি, পিবিআই, র‌্যাব ও বেনাপোল পোর্ট থানার কর্মকর্তারা ওই ভল্ট রুমে প্রবেশ করেন। সেখানে হাত-পায়ের ছাপসহ আলামত সংগ্রহ করা হয়।

কাস্টম হাউসে সিসি ক্যামেরায় সুরক্ষিত একটি সংরক্ষিত এলাকায় কীভাবে এ ধরনের দুর্ধর্ষ লুটের ঘটনা ঘটল তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন খান বলেন, ‘বেনাপোল কাস্টমসের ভল্টে বিকল্প চাবি ব্যবহার করে স্বর্ণ চুরি  করা হয়েছে। এখানে পুলিশ সুপার মঈনুল হকসহ সিআইডি ও পিবিআই কর্মকর্তারা তদন্তকাজ চালাচ্ছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত