ইসলামকে জানার আগ্রহে পঞ্চগড়ে হিন্দু ছাত্র ভর্তি হলো মাদ্রাসায়

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:২১ পিএম

সনাতন হিন্দু ধর্মের পরিবারের সন্তান হয়েও ইসলামকে জানার অদম্য ইচ্ছা শক্তি আর প্রবল আগ্রহে বছরের শুরুর দিকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হয় নয়ন।

নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করে এখন সে অংশ নিচ্ছে চলমান জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট  (জেডিসি) পরীক্ষায়।

তার বাবা রতন রায় জানান, আমার ছেলে মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ায় আমরা পরিবার থেকে কোনো প্রতিকূলতা দেখাইনি।

ওই মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক অবস্থায় আমি জানতাম না যে, নয়ন সনাতন ধর্মাবলম্বী। কারণ, তার মাদ্রাসায় দেওয়া তথ্যে নিজের নামসহ বাবা-মায়ের নামের সামনে পেছনে কোনো ধর্মীয় পরিচয় ছিল না। পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের জন্য সে টুপি-পাঞ্জাবি পরা ছবি দিয়েছিল।

তিনি বলেন, তা ছাড়া নয়ন, রতন এ রকম নাম মুসলিমদেরও আছে। কোরআন মজিদ, আরবিসহ হয়ে যাওয়া সব পরীক্ষা ভালোই হয়েছে বলে সে জানিয়েছে আমাকে।

ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায়। নয়ন উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের প্রামাণিক পাড়া এলাকার রতন রায়ের ছেলে। সে স্থানীয় শেখ বাধা রেজিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার জেডিসি পরীক্ষা দিচ্ছে।

এ বিষয়ে নয়ন জানায়, আমি আমার পরিচয় গোপন রাখতে চেয়েছিলাম। কারণ, আমি সনাতন ধর্মাবলম্বী এটা জানার পর যদি শিক্ষকরা আমাকে মাদ্রাসায় ভর্তি না করান।

ইসলাম ধর্মকে জানার এত আগ্রহ কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে নয়ন জানায়, আমি সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলে পড়েছি। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় মাদ্রাসার সহপাঠীদের সঙ্গে প্রাইভেট পড়তাম। তখন তাদের চালচলন, পড়ালেখা এবং ধর্মীয় বিষয়গুলো দেখে ইসলাম ধর্মের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। তখন তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে মাদ্রাসায় ভর্তি হই। আর আমি মাদ্রাসা থেকেই উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে চাই।

মাদ্রাসায় পড়লে তো আরবি জানা আবশ্যক এমন প্রশ্নের উত্তরে সে জানায়, আমি আলাদাভাবে প্রাইভেট পড়ে আরবি বিষয় মোটামুটি আয়ত্ত করেছি।

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. সলিমুল্লাহ বলেন, ‘এ রকম কোনো তথ্য আমি পাইনি। তাই এখন কিছু বলতে পারছি না। খোঁজ নিয়ে জানাতে পারব’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত