আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) প্রশাসনের বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেছেন তার মা রোকেয়া খাতুন।
বুধবার আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ।
এরপর কুষ্টিয়ায় বসবাসরত রোকেয়া খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার ছেলের বিচারের দায়িত্ব নিয়েছেন, আমি তাকে কৃতজ্ঞতা জানাই। সেই সঙ্গে ধন্যবাদ জানাই দ্রুত তদন্তকাজ শেষ করার জন্য পুলিশকে’।
আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘আমি চাই এখন দ্রুততম সময়ে বিচার কাজ শেষ হোক, এখানে যা রায় আসবে সেটা যেন দ্রুত সময়ের মধ্যেই সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। আমি পুরো দেশবাসী, সব প্রশাসন, গণমাধ্যম, বুয়েটের ছাত্র/ছাত্রী সবার প্রতি ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, ‘আমার দাবি একটাই বিচার কাজ শুরু এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তার বাস্তবায়ন দেখতে চাই’।
রোকেয়া খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বুয়েট প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘বুয়েট প্রশাসনের যে দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার কারণে আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তারা যদি সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিত তাহলে হয়ত আমার ছেলেকে এভাবে অকালে জীবন দিতে হতো না’।
তিনি বলেন, ‘ওরা মেরেছিল হয়ত গুরুতর অসুস্থ হতো, হয়ত ছয় মাস বা এক বছর হাসপাতালে বা বিছানায় থাকত তবুও তো আমার বুকের ধন আমার বুকে আবার ফিরে আসত। এখন বুয়েট প্রশাসনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তাদের গাফিলতির জন্য যে অদূর ভবিষ্যতে আমার ছেলের মতো আরো কোনো মায়ের বুক খালি হবে না, সে দায়িত্ব কে নেবে, প্রশাসন নেবে নাকি আইন নেবে?’
রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘এমন ব্যবস্থা নেয়া উচিত যাতে আর কোনো দিন কোনো মাকে আমার মতো হাহাকার করতে না হয়। এই বুয়েট (প্রশাসনের) গাফিলতির শেষ সমাপ্তি ঘটুক। সে জন্য বুয়েটের বিরুদ্ধেও যেন একটা ব্যবস্থা নেয়া হয়’।
তিনি আরো বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আবারও ধন্যবাদ জানাই, যে উনি আমার কাছে যে ওয়াদা করেছিলেন তার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি। দ্রুত সময়ে পুলিশ প্রশাসন এই তদন্ত শেষ করেছে তাদেরও ধন্যবাদ জানায়। বেশিসংখ্যক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আর যে দু’একজন এখনো বাইরে আছে তাদেরও গ্রেপ্তার করবে বলে আমি আশা রাখি। পুলিশ আমাকে জানিয়েছিল, উনারা একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করবেন, এখনো আমি চার্জশিট পড়ি নাই। টেলিভিশনে শুধু নামগুলি জেনেছি। এর বাইরে এ মুহূর্তে আমি কিছু বলতেও পারছি না। তারপরও আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই’।
