ঝালকাঠিতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্প ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মাণাধীন গুচ্ছগ্রামের ১৮টি ঘর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়েছে। গত ১০ নভেম্বর দুপুরে জেলার রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের চল্লিশ কাহনিয়া চরপালট গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে যথাসময়ে উপকারভোগীদের মধ্যে এসব ঘর হস্তান্তর নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে গুচ্ছগ্রাম বাস্তবায়ন কমিটি।
জানা গেছে, চল্লিশ কাহনিয়া এলাকায় বিষখালী নদীতীরের চর ভরাট করে সাড়ে তিন একর জমির ওপর ভূমি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে গুচ্ছগ্রাম-২ (সিভিআরপি)-এর আওতায় প্রতিটি ঘর দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৭০টি ঘর নির্মাণে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। এজন্য গত সেপ্টেম্বর মাসে চরে বালু ফেলে বসতি করার উপযোগী করে ঘর এবং রান্নাঘর ও বাথরুমসহ এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। ইতিমধ্যে ৩৫টি ঘরের কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল। চলতি মাসের শেষের দিকে পুরো কাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষের কাছে সেগুলো হস্তান্তর করার কথা ছিল। কিন্তু গত রবিবার ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে গুচ্ছগ্রামে নির্মিত ঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরের চালা, খুঁটি ও লোহার পাত ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়। বিষখালী নদীর পানি প্রায় পাঁচ ফুট বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের পুরো জায়গা তলিয়ে গিয়ে মাটি ও বালু ধুয়ে গেছে।
প্রকল্পের সভাপতি বড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আহসান কবির বলেন, বুলবুলের তাণ্ডবে এ প্রকল্পের প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই মুহূর্তে সরকারের তরফ থেকে যদি ব্যয় না বাড়ানো হয় তাহলে কোনোভাবেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব নয়।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে সিভিআরপি প্রকল্পের ঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর আমি শুনেছি। এখনো ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পটি পরিদর্শন করা হয়নি। রাজাপুরের ইউএনওর মাধ্যমে পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
