ক্রিকেটারদের আত্মনিবেদন নিয়ে প্রশ্ন বিসিবি সভাপতির

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৫৯ পিএম

ইন্দোর টেস্টে ইনিংস ও ১৩০ রানে হেরেছে বাংলাদেশ দল। সেটিও মাত্র তিন দিনে। হতাশার এই হারের পর অনেক প্রশ্নই সামনে আসছে। বিশেষ করে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে কোচ রাসেল ডমিঙ্গো কাঠামো পরিবর্তনের কথা বলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটেও নানা দিক উন্নতির তাগিদ দেন তিনি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও মনে করেন টেস্টে অনেক উন্নতি করার আছে বাংলাদেশের। তবে ভারতের ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেশের ক্রিকেটারদের তুলনা করতে গিয়ে অনেক ফারাক দেখেন বিসিবি বস। যা রাখঢাক না রেখেই বলেছেন তিনি।

শনিবার বিপিএলের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাজমুল হাসান পাপন। এ সময় তিনি বলেন, ‘ভারতের খেলোয়াড়দের চিন্তা ধারাই অন্যরকম। ওদের মন প্রাণ জীবনের সবকিছুই ক্রিকেট। একটা ছেলে জাতীয় দলে সুযোগ পাবে কি না এটা নিয়ে চিন্তাও করে না। একটা বাচ্চা ছেলে স্কুল টিমে চান্স পাবে এটাই ওর স্বপ্ন। রঞ্জি ট্রফিতে খেলতে হবে তাই জান দিয়ে দিচ্ছে। দিন রাত কষ্ট করছে। জাতীয় দলের চিন্তাই করে না।’

বিসিবি বস যোগ করেন, ‘এত ডিসিপ্লিন, এত নিয়ম কানুন মানে ওরা (ভারতীয় ক্রিকেটাররা)। আমাদের মধ্যে কিন্তু এই জিনিসটা দেখতে পাই না। এটা এত সহজে আসবে না। ভারতে এটা এসেছে, আমাদের মধ্যেও আসতে একটু সময় লাগবে।’

কাঠামো পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পাপন বলেন, ‘আমাদের আলাদা একটি টিম করতে হবে। এটা (টেস্ট) আমাদের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা। ভারত হচ্ছে এখন সবচেয়ে শক্তিশালী। অন্যরাও শক্তিশালী। কিন্তু আমরা দুর্বল এটা স্বীকার করতে হবে। আমরা যে প্ল্যানে এগোচ্ছি, আশা করি এক থেকে দেড় বছর পর আমাদের একটি টেস্ট টিম হবে।’

ইন্দোর টেস্টে বাজেভাবে হারলেও বিসিবি সভাপতিকে এর চেয়ে বেশি পীড়া দিচ্ছে টি-টোয়েন্টিতে সিরিজ হার। যে হতাশায় নিজে ঘর থেকেও বেশি বের হচ্ছে না বলে জানান নাজমুল হাসান পাপন, ‘টেস্টের আগেই মন ভেঙে গেছে, টেস্ট তো পরে। প্রথম কথা হচ্ছে এবারের এই সিরিজে অনেক আশা ছিল টি-টোয়েন্টিতে আমরা জিতব... আমার মনে প্রাণে বিশ্বাস ছিল আমরা জিতব।’

দিল্লিতে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টাইগাররা জিতে নেয় ৭ উইকেটে। এরপর রাজকোটে হার মানে ৮ উইকেটে। এরপর নাগপুরে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে আশা জাগিয়েও টাইগাররা হেরে যায় ৩০ রানে। যা মানতে পারছেন না বিসিবি প্রধান।

‘প্রথম ম্যাচটা ভালো খেলেছি আমরা। দ্বিতীয় ম্যাচটা ওরা ভালো খেলেছে, এটা তো অস্বীকার করার কোনো উপায়ই নেই। কিন্তু তৃতীয় ম্যাচটা নিশ্চিত জেতা ম্যাচ। এই হারটা এখন আমি নিজেই হজম করতে পারিনি। আমি বাসা থেকেই বের হই না। আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন, আমি কোথাও যেতেই চাই না। আমি এখনো নিজে এটা মেনেই নিতে পারছি না এই ম্যাচটাও হারব।’- বলেন পাপন।

শেষ টি-টোয়েন্টিতে নাঈম শেখ দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। কিন্তু মিডল অর্ডারে কেউ পারেননি তাকে সহায়তা করতে। আক্ষেপ করে বিসিবি প্রধান বললেন, ‘শুধু আপনি হিসেব করে দেখেন সৌম্য, লিটন, মুশফিক, রিয়াদ...। এদের চেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তো আমাদের আর নেই। এরা যদি ১০ করে ৪০ রানও করত আমরা সেদিন ম্যাচ জিতে যেতাম।  কারণ বাকি যে সাত রান থাকে ওটা বাকিরা করে নিত। ফাইনালে গিয়ে যদি এই অভিজ্ঞদের কাছ থেকে পারফরম্যান্স না পাই তাহলে এটা আমাদের দুর্ভাগ্য...।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত