চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে গত বৃহস্পতিবার নিয়োগ পেয়েছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌলা। এ নিয়োগ নিয়ে ক্যাম্পাসে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। প্রক্টর থাকাকালীন ছাত্রলীগ কর্মী হত্যায় মদদসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে অধ্যাপক সিরাজ বলেছেন, অভিযোগ যে কেউই করতে পারে, এটি তার অধিকার। কিন্তু কেউই এসব প্রমাণ করতে পারবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কেএম নূর আহমদ জানান, ছাত্র উপদেষ্টা আহমদ সালাহউদ্দিন পদত্যাগ করায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতার পদটিতে অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌলাকে নিয়োগ দিয়েছেন।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর থাকাকালীন, ২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ আসে। এরপর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন হলে দিনের পর দিন ক্যাম্পাস বন্ধ ছিল। এরই মধ্যে ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর শাহ আমানত হলে ছাত্রলীগ কর্মী তাপস সরকারকে গুলি করে হত্যা করে শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক একটি গ্রুপ। এরপর অধ্যাপক সিরাজের বিরুদ্ধে এ গ্রুপের সদস্যদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সশস্ত্র ওই গ্রুপের মাধ্যমে তিনি পুরো ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করতেন। এমনকি তাপস হত্যার চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি আশরাফুজ্জামান আশাকে দিয়ে অধ্যাপক সিরাজ কোটি কোটি টাকার টেন্ডার, দোকান, মাদক ও নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন।
প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ১১ নভেম্বর সিরাজ উদ দৌলাকে নিয়োগ দিতে উপাচার্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তার অনুসারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ওইদিন তিনি প্রক্টরের গাড়িতে ক্যাম্পাসে ঘোরেন এবং অফিসও করেন। এতে ছড়িয়ে পড়ে আবারও প্রক্টর হচ্ছেন অধ্যাপক সিরাজ। তবে ছাত্রলীগ প্রতিবাদ জানালে, পিছু হটেন উপাচার্য। কিন্তু দুদিন পর তাকে ছাত্র উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিহত ছাত্রলীগ কর্মী তাপসের মা অঞ্জলি রানী সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছেলে হত্যার মদদদাতাকে যদি বড় পদে বসানো হয়, ন্যায়বিচারের আশা থাকে না। ছাত্রলীগের ছেলেরাই বা কী করছে? তাদের উচিত লোকটিকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া। আশা করছি, প্রশাসন এ নিয়োগ বতিল করবে।’ এ বিষয়ে অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌলা বলেন, ‘অভিযোগ তো যে কেউ দিতে পারে, এটি তাদের অধিকার। কিন্তু কেউই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। কারণ এসব অভিযোগ তারা প্রমাণ করতে পারবে না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এসব নিয়ে আমি নতুন করে কিছু বলব না। তোমাদের যা ইচ্ছা, লিখতে পার।’
