বিরোধী দল বিএনপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অস্থির করে রেখেছেন ‘এক অভিভাবক’। এমনটা জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
আবরার ফাহাদ হত্যায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, অভিযোগপত্র দেওয়ার পরও বুয়েট ক্লাস-পরীক্ষা চালু না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপমন্ত্রী।
তিনি বুয়েটে চলমান আন্দোলনে ‘কতিপয় গোষ্ঠী’ জড়িত দাবি করে তারা চিহ্নিত বলে জানান।
তিনি বলেন, ‘বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যা একটি মর্মান্তিক ও দুঃখজনক ঘটনা। দলীয় বিবেচনা না করে হত্যায় জড়িত সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি কতিপয় গোষ্ঠী হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে রেখেছে। তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। খুব দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
সোমবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অবস্থা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
উপমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তির সহায়তায় আমাদের কাছে সব তথ্য রয়েছে। মেধাবীদের প্রতিষ্ঠান বুয়েট, তাই আমরা কারো বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা বা অন্য ব্যবস্থা নিতে চাই না। আপনারা (অভিভাবকরা) তাদের সন্তানদের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে সঠিক পথ দেখান। উসকানিমূলক আচরণ করে জনগণের অর্থে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয় অচল রাখার চেষ্টা করে রাজনৈতিক ফয়দা নেয়ার চেষ্টা করবেন না। কারা এসব করছেন আমাদের কাছে সেসব তথ্য রয়েছে’।
আন্দোলনে ‘ইন্ধনদাতা’ শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে উপমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা উসকানি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে রেখেছেন। আবার আপনারা বেতনও নিচ্ছেন। এটা কোন নৈতিকতার মধ্যে পড়ে’?
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপিকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে এক অভিভাবক উসকানি দিয়ে দেশের শীর্ষ মানের এই প্রতিষ্ঠানটিকে অস্থির করে রেখেছেন’।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উপমন্ত্রী বলেন, ‘অভিযুক্ত অপরাধীরা কারাগারে আটক রয়েছে। তাদের বিচার চলছে, এ সময় বুয়েট থেকে তাদের স্থায়ী বহিষ্কারের ইস্যু তুলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছেন। স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, এ জন্য সময় প্রয়োজন। যেহেতু অপরাধীরা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার, এ সময় তাদের স্থায়ী বহিষ্কার মুখ্য বিষয় নয়। এ ইস্যুতে আন্দোলন চাঙা রাখা হবে তা হতে পারে না’।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সংকট কবে কেটে যাবে এমন প্রশ্নের উত্তরে মহিবুল বলেন, ‘উপাচার্যের পক্ষে-বিপক্ষে শিক্ষকদের দুটি আলাদা অভিযোগ জমা হয়েছে, আমরা প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছি। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে’।
