দল হয়ে খেলার চ্যালেঞ্জে ‘গোলাপি’ শহরে বাংলাদেশ

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১২:২৯ এএম

ইন্দোর থেকেই কলকাতার উত্তেজনা বেশ বোঝা যাচ্ছিল। গোলাপি বলে ঐতিহাসিক বাংলাদেশ-ভারত দিবারাত্রির ম্যাচকে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি ‘টেস্টের পুনর্জন্ম’ বলে ফেলেছেন। মুমিনুল হক ও বিরাট কোহলির দলকে ‘সিটি অব জয়’ গতকাল স্বাগত জানিয়েছে ‘গোলাপি’ রঙে। ইন্দোরে তিন দিনে ইনিংস ব্যবধানে বাজেভাবে হারার দুঃখ পেছনে ফেলে বাংলাদেশ দল যেখানে পা রেখেছে নতুনের গল্প লেখার রোমাঞ্চে। দল হিসেবে লড়ার প্রতিজ্ঞায়। ইন্দোরের আট দিনের তিন দিন ছিল ম্যাচ ডে। বাকি সময়টা অনুশীলন। এর মধ্যে ম্যাচের বেঁচে যাওয়া

দুদিন গোলাপি বলের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও রহস্য উন্মোচনের চেষ্টায় কাটল। ঐতিহাসিক টেস্টের ভেন্যু ইডেন গার্ডেনসে দু’দলের চূড়ান্ত অনুশীলন আগামীকাল থেকে। তার আগে গতকাল বাংলাদেশ দলের কলকাতা আসার বিমানটা ইন্দোর থেকে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ল। তবে কলকাতায় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টিম হোটেলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে খেলোয়াড়দের মনের অনুভূতিগুলোও ‘গোলাপি’ হওয়ার কথা। তারা যে এখন ‘গোলাপি’ শহরে।

সৌরভ উন্মোচন করেছেন পিঙ্ক বলের মাসকট ‘পিঙ্কু-টিঙ্কু’। পাড়ার দুই ডানপিটে খোকা গোলাপি বলের টেস্টের উত্তেজনায় মত্ত। শিহরণ ছড়াচ্ছে সবার মাঝে। ইডেন থেকে বাতাসে ভাসানো হয়েছে জায়ান্ট এক গোলাপি বেলুন। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত উড়বে ওখানে। ওদিকে কলকাতার শহীদ মিনার, সবচেয়ে উঁচু ৪২ তলা ভবন, পৌরসভার কয়েকটি পার্ক গোলাপি আলোর আভা ছড়াচ্ছে দিন ফুরোতেই।

বাংলাদেশের ফাস্ট বোলার আল-আমিন হোসেনের কাছে ইন্দোর ছাড়ার আগে জানতে চাওয়া হয়নি খেলার বাইরে সৌরভের নেতৃত্বে এসব কার্যক্রম কতটা রোমাঞ্চিত করছে তাদের। তবে প্রথম টেস্ট মিস করা বোলার ভেতরে কতটা শিহরিত তা বলতে ভোলেননি। সেই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ব্যাটসম্যানদের চেয়ে গোলাপি বল বোলারদের পরীক্ষাই নেবে বেশি। 

‘আমরা সবাই উন্মুখ হয়ে আছি। সামনে ঐতিহাসিক টেস্ট, গোলাপি বলে। এখানে ভারতও অপরিচিত, আমরাও অপরিচিত। বলটাও নতুন। সেই হিসেবে মনে হয় ভালো একটা চ্যালেঞ্জিং ম্যাচ হবে।’ আল-আমিন আরও একটা দিক টেনে বলছিলেন, ‘ফ্লাডলাইট জ্বালিয়ে দেওয়া হলে বলের মুভমেন্ট অনেক বেড়ে যাচ্ছে। ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জ হবে। কিন্তু আমার মনে হয় সবকিছু মিলে চ্যালেঞ্জটা বোলারদের। যে দলের বোলাররা ভালো করবে সেই দল এগিয়ে থাকবে এই টেস্টে।’

ভারতীয় বোলারদের জন্য সেই চ্যালেঞ্জ কতটা হতে পারে? ইন্দোরে যে পারফরম্যান্স তারা দেখিয়েছেন তাতে চ্যালেঞ্জ খুব বেশি কি না সে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে আইসিসির বিশ্ব টেস্ট ব্যাটসম্যান র্যাংকিংয়ে কোহলি ২, চেতেশ্বর পুজারা ৪, আজিঙ্কা রাহানে ৫ আর রোহিত শর্মা ১০ নম্বরে। নতুন বল আর সেরা এই ভারতীয়দের কথা মাথায় রেখে আল-আমিন বলছিলেন, ‘ওদের সব ব্যাটসম্যানই টপ ক্লাস। র‌্যাংকিংয়ে এক থেকে দশে ২-৩ জন ব্যাটসম্যান আছে। বোলারদের জন্য তাই গোলাপি বলে একটা পরীক্ষা বলে আমার মনে হয়।’

সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের দুই পেসার ছিলেন আবু জায়েদ রাহী ও ইবাদত হোসেন। মোস্তাফিজুর রহমান ও আল-আমিনের মধ্যে একজনের ইডেনে খেলা নিশ্চিত। দুজন খেললেও অবাক হওয়ার থাকবে না। যদিও তিন পেসারের একাদশ হওয়ার কথা। তবে যেই খেলুক ৪৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা আল-আমিনের কথাটা মনে রাখতে হবে ‘এখন বল ভালো, সবকিছু ভালো। কন্ডিশনও যদি ভালো থাকে আমরা যারা পেস বোলার খেলব তাদের দায়িত্ব কিন্তু অনেক। কারণ ভালো জায়গায় বল করতে হবে। নাহলে ওদের কিন্তু সমস্যায় ফেলা যাবে না।’

সব সংস্করণের খেলাতে বাংলাদেশের হালের সমস্যা দলগতভাবে খেলতে না পারা। ওই ব্যর্থতা কলকাতায়ও হানা দিলে উপায় থাকবে না কোনো। ‘আমি বারবার বলছি যারা বোলার থাকবে মানে পেসার ও স্পিনাররা দলগতভাবে বল করতে না পারলে সব কঠিন হয়ে যাবে।’ ২৯ বছরের আল-আমিন গোলাপি বল কিংবা কন্ডিশন, সবকিছু ভুলে ক্রিকেটের মৌলিক জায়গায় গিয়ে সারমর্মের মতো করে বোঝান, ‘আমরা চিন্তা করছি দলগতভাবে কীভাবে ভালো খেলা যায়, কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়। সেই চেষ্টাই থাকবে কলকাতা টেস্টে।’

বাস্তবতা হলো, দল হিসেবে এক বিন্দুতে মিলছে না কিছু। ভারত সফরের শেষ ম্যাচে গোলাপি উৎসবে বাংলাদেশ এবার দল হতে পারবে তো?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত