মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কমিটি হচ্ছে

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৩৪ এএম

ঝিনাইদহের মহেশপুরে ভারত সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো দিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকের

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন পরিষদগুলোর (ইউপি) চেয়ারম্যানদের নেতৃত্বে ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি সীমান্ত এলাকায় অপরিচিত কোনো ব্যক্তি দেখলেই নিকটবর্তী বিজিবির সদস্যদের কাছে খবর পৌঁছে দেবে।

মহেশপুরের ইউএনওর দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুজন সরকারের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, মহেশপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমান উল্লাহ, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ৫৮ বিজিবির জলুলী ক্যাম্পের সুবেদার মাহবুবুর রহমান, শ্রীনাথপুর ক্যাম্পের কমান্ডার কামরুল ইসলাম ও কুশুমপুর ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার আবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সুবেদার মাহবুবর রহমান বলেন, ভারত থেকে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ নিয়ে সভায় আলাপ-আলোচনা হয়। সবশেষে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে কমিটি গঠন করে বিজিবিকে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত হয়।

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই অনেক মানুষ বাংলাদেশে ঢুকছেন বা ঢোকার চেষ্টা করছেন। গত ১০ দিনে এই সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার সময় ২০৩ জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিজিবির ভাষ্য, আটক হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। আটককৃতরা বিজিবিকে জানিয়েছে, ভারতে জাতীয় নাগরিক তালিকার (এনআরসি) আতঙ্ক ও নানা চাপের কারণে তারা ভারত ছেড়েছেন।

এদিকে মহেশপুরের সীমান্তবর্তী কয়েকজন বাসিন্দা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, অনুপ্রবেশের সময় বিজিবির হাতে এখন পর্যন্ত যতজন আটক হয়েছেন তার তুলনায় অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। এদের অধিকাংশই রাতের আঁধারে লুকিয়ে বন-জঙ্গল পেরিয়ে এ দেশে ঢুকছেন।

তবে বিজিবির দাবি, সীমান্তে কঠোর নজরদারি করছে তারা। কেউ যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।

ভারতের আসামে গত ৩১ আগস্ট এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়। এতে ঠাঁই পাইনি ১৯ লাখের বেশি মানুষের নাম। তালিকা প্রকাশের পর এই বিশালসংখ্যক মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। এ নিয়ে বাংলাদেশে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে বৈঠকে এবং ৫ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কিছু নেই। সর্বশেষ গত বুধবার ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, আসামের মতো এনআরসি সারা ভারতেই হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত