ভারতের আসামে চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিক তালিকা বা এনআরসি থেকে বাদ পড়ার কারণে ভারতীয় বাঙালিদের বাংলাদেশ সীমান্তে জড়ো হওয়ার খবরকে গুজব বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
শনিবার দুপুরে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমিতে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
৩১ আগস্ট এনআরসি ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে ঝিনাইদহ, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার সীমান্ত দিয়ে মাঝেমধ্যেই দুয়েকটি পরিবার দালালদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে সীমান্ত পার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এর মধ্যে এ মাসের শুরু থেকে এই অনুপ্রবেশের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) দুই শতাধিক ভারতীয় নাগরিককে আটক করে। তবে এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো পক্ষ থেকে নির্দেশনা নেই বলে নয়াদিল্লি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভারতের আসামের নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ঘোষণার পর থেকেই বাদ পড়া নাগরিকরা বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে।
‘বাদ পড়া এসব নাগরিক বাংলাদেশের’– ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি নেতাদের এ বক্তব্যের পর থেকেই আসামে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
শনিবার এ বিষয়ে রাজশাহীতে শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘ভারত সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা এমন কিছু করবে না যাতে দু’দেশের সম্পর্কে কোনো ধরনের বিন্দুমাত্র অবনতি ঘটে। কাজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুপ্রবেশের যে খবর ছড়ানো হচ্ছে তা গুজব’।
পররাষ্ট্র পতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে সেখানে কোনো মাঝি বা অল্প শিক্ষিত মানুষ ভুল করে ঢুকলে আমরা আইনী প্রক্রিয়ায় তাদের ফিরিয়ে আনি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হচ্ছে’।
তিনি বলেন, ‘গুজব তো গুজবই, গুজবে কান দেওয়া অবশ্যই উচিত নয়। এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী অক্টোবর মাসে ভারত সফর করে এসেছেন। আমাদের কিছু মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ গোহাটিতেও সভা করে এসেছেন কয়েক সপ্তাহ আগে। অতি সম্প্রতি আমরা ভারত-বাংলাদেশের একটি অনানুষ্ঠানিক দ্বি-পাক্ষিক আয়োজন হয় কক্সবাজারে সেখানেও আসাম থেকে, মিজরাম থেকে খুব সিনিয়র মন্ত্রীরা এসেছিলেন। সেখানেও গণমাধ্যমে তারা বলেছেন, এমন কোনো কিছু তারা করবেন না যেটা ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কোন স্পট ফেলে’।
এ বিষয়ে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এমএ মোমেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এসব আশ্বাসের পরও এনআরসি ঘোষণার আগে থেকেই বাংলাদেশের সবকটি সীমান্ত সতর্ক অবস্থা জারি করেছে সরকার। এনআরসিতে বাদ পড়ারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়। এটা ভারতের প্রধানমন্ত্রীও আমাদের আশ^স্ত করেছেন। তবে আমরা সতর্ক রয়েছি’।
