কাদা ছোড়াছুড়ি না, যথাযথ নিষ্পত্তি করব: বিদিশার অভিযোগ প্রেক্ষিতে কাদের

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৯, ১২:২৫ এএম

জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশার টানা অভিযোগের প্রায় দুসপ্তাহ পর মুখ খুললেন এরশাদের ভাই ও জাপার চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

রবিবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি কাদা ছোড়াছুড়ি করছি না। করব না।

এ সময় সাংবাদিকরা তার বিরুদ্ধে এরশাদ-বিদিশার ছেলে এরিক ও তার মা বিদিশার বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তার উত্তরে জিএম কাদের বলেন, আমি রাজনীতি করি। রাজনীতি করতে গেলে শতভাগ মানুষের সমর্থন পাওয়া যায় না। রাজনীতি করতে গেলে অনেক সময় বাইরের মানুষও আমার জন্য জীবন দেবে। আবার খুব ঘনিষ্ঠ মানুষও আমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যেতে পারে। এটা পৃথিবীর ইতিহাসে সব সময় ছিল এবং আছে।

বিদিশার নাম উল্লেখ না করে জিএম কাদের বলেন, আমাকে নিয়ে কে কী বলল, তা নিয়ে মগ্ন থাকলে, দেশ ও জাতির জন্য কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। আমি সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দেশের মানুষও আমাকে সেভাবেই গ্রহণ করেছে আশা করছি। সাধারণভাবে ভালো কাজ করতে গেলে, কিছু মানুষ বাধা সৃষ্টি করবে, সেগুলো আমরা যথাযথভাবে নিষ্পত্তি করব।

গত প্রায় দুসপ্তাহ ধরেই নানাভাবে বিদিশা তার ফেইসবুক পেইজ, ভিডিও বার্তা ও সাংবাদিকদের কাছে এরিকের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছেন। এর জন্য তিনি সরাসরি জিএম কাদেরকে অভিযুক্ত করেন।

গত ১৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় এরিককে খাবার দেওয়ার কথা বলে বারিধারার এরশাদের বাসা প্রেসিডেন্ট পার্কে ওঠেন বিদিশা। সেখান থেকে তিনি জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করতে থাকেন।

বিশেষ করে গত শুক্রবার ওই বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিদিশা জিএম কাদেরকে উদ্দেশ করে বলেন, এবার একটু ক্ষান্ত দেন। আপনারা ঠিকমতো রাজনীতি করেন। জাতীয় পার্টি নিয়ে থাকেন। আপনারা কাদা ছোড়াছুড়ি করলে আমি কিন্তু আর বসে থাকব না। আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। ভদ্রভাবে ক্লিন ইমেজ নিয়ে থাকেন। আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি কিছুতেই আমার সন্তানের অধিকার ছাড়ব না। এ সময় এরিকও চাচার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে বলেন, আমার চাচা জিএম কাদেরের তো আমার সম্পত্তির ওপর একটু লোভ আছে। সে জন্য তিনি আমাদের সঙ্গে এমন করছেন।

পরে গত সোমবার নিজ বাসায় নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ এনে গুলশান থানায় একটি জিডি করেন এরিক। জিডিতে তিনি তার বারিধারার বাড়িতে মা বিদিশাকে রাখতে চাওয়ার কথাও জানান। জিডির সময় বিদিশা এরিকের সঙ্গে ছিলেন।

সে রাতে রংপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পথে জিএম কাদের দেশ রূপান্তরকে বলেন, এর পেছনে ষড়যন্ত্র আছে। এরিক একজন স্পেশাল চাইল্ড। আমার মনে হয় না, সে নিজে থেকে এসব করছে। কেউ হয়ত তাকে দিয়ে করাচ্ছে। দলে আর দলের বাইরে আমার তো শত্রুর অভাব নেই।

ওইদিন বিদিশাকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি জিএম কাদের। তিনি বলেন, আমি এখন কিছু বলব না তাকে। দেখতে চাই, তিনি কতটুকু করতে পারেন। আমার ভাই বেঁচে থাকতে এরিককে কিডন্যাপের হুমকিও তো দেওয়া হয়েছিল। এরিককে তখন ভয় দেখানো হতো। তখন তিনি (এরশাদ) বলে গেছেন, আমরা যেন তার মৃত্যুর পরে বাবার দায়িত্ব পালন করি। এরিকের এ জিডির পর মনে খুব কষ্ট পেলাম।

এরপর গত রবিবার সংবাদ সম্মেলন করে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্টের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মো. খালেদ আখতার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় বিদিশার থাকাকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি এরশাদের করে যাওয়া অছিয়তনামা ও ট্রাস্টের শর্তাবলি অনুযায়ী এরশাদের কোনো সম্পত্তিতে বিদিশার অধিকার নেই বলে জানান। এমনকি এরিকের দেখাশোনার ভার এরশাদ ট্রাস্টের ওপর দিয়ে গেছেন বলেও জানান।

রবিবার দুপুরে জাপার চেয়ারম্যানের বনানী অফিসে জামালপুর জেলার জেপি ও বিজেপি থেকে ২০ আইনজীবী জিএম কাদেরের হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন।

এ সময় জিএম কাদের বলেন, দেশপ্রেম, দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য এবং সাংগঠনিক ঐক্য দিয়ে জাতীয় পার্টি দেশের সাধারণ মানুষের আশা-আকাক্ষা পূরণ করবে। এ সময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গাও বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত