‘সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে কাবাডি দল স্বর্ণপদক জয়ের জন্যই যাচ্ছে। আশা করি কাঙ্ক্ষিত ফল নিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন খেলোয়াড়রা। তা ছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের মাটিতে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। কাবাডি খেলাকে আরো জনপ্রিয় করতে সারা দেশে দেড় লাখ ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হবে।’- বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরে জুনিয়র বিশ্বকাপ কাবাডিতে ব্রোঞ্জজয়ী খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি।
তিনি যোগ করেন, ‘কাবাডিতে আরও বেশি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। দেশের জাতীয় এই খেলাটিতে জোয়ার আনতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা চেষ্টা করছি বিশ্ব কাবাডিতে হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে।’
এই সময় কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান এবং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক ও অতিরিক্ত ডিআইজি (ডেভেলপমেন্ট) গাজী মোজাম্মেল হকসহ ফেডারেশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসএ গেমসে অংশ নেওয়ার আগে বিশেষ প্রশিক্ষণে মাসাধিককাল আগেই ভারত গেছে পুরুষ ও নারী কাবাডি দল। সেখানে ভারতীয় কোচ সাজুরামের তত্ত্বাবধানে বিশেষায়িত অনুশীলন করছেন কর্মকর্তারা। এবার গেমসে অংশ নেওয়ার পালা। তাই জাতীয় দলও ঘোষণা করে দিলেন আইজিপি। এত দিন নারী কাবাডি দলের সঙ্গে সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন অধিনায়ক শাহনাজ পারভীন মালেকা। গেমসে দলের সঙ্গে তিনিও খেলবেন।
জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, আপামর জনগনের কাছে কাবাডি জনপ্রিয় খেলা ছিল। কিন্তু জাতীয় খেলা সত্ত্বেও আমরা কাবাডিকে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারিনি। বর্তমান কমিটি হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে কাজ করে যাচ্ছে। ঘরোয়া আসরের পাশাপাশি ছেলে মেয়েরা আন্তর্জাতিক আসরেও অংশ নিচ্ছে। বর্তমানে দেশে ৫০ জন ভালোমানের পুরুষ ও নারী খেলোয়াড় রয়েছে।
ক’দিন আগেই ইরানের কিশ আইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপে ১৩ দেশের মধ্যে তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছে যুবারা। পুরুষ ও নারী দু’দলেরই প্রধান কোচ ভারতীয় সাজু রাম। এতে তার মনযোগে সমস্যা হবে কিনা জানতে চাইলে ড. জাবেদ পাটোয়ারি বলেন, ‘প্রধান কোচ একজন হলেও ওনার সহকারী দু’জন। তাই কোন সমস্যা হবে না। এখন কেবল কাবাডিই নয়, ক্রিকেট, ফুটবলসহ নানা ডিসিপ্লিনে পুলিশ ক্লাব খেলছে এবং পদকও জিতে আনছে।’
জাতীয় পুরুষ কাবাডি দল:
মাসুদ করিম, জাকির হোসাইন, আনোয়ার হোসাইন, সবুজ মিয়া, আশরাফুল শেখ, মনিরুল চৌধুরী, আবদুল মুমিন, ফেরদৌস শেখ, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, হাসান আলী ও জাবেদ শেখ। সহকারী কোচ বাদশা মিয়া ও ম্যানেজার শরীফ মোহাম্মদ আরিফ মিহির।
জাতীয় নারী কাবাডি দল:
শাহনাজ পারভীন মালেকা, শারমীন সুলতানা রিমা, রুপালী আক্তার, শ্রাবনী মল্লিক, হাফিজা আক্তার, টুকটুকি আক্তার, দিশা মনি সরকার, লাকী আক্তার, স্বরসতী রানী রায়, বৃষ্টি বিশ্বাস, মেবি চাকমা ও রেখা আক্তারী। সহকারী কোচ বজলুর রশিদ ও ম্যানেজার সৈয়দা তাসলিমা আক্তার।
