নৌধর্মঘট প্রত্যাহার একাংশের

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৩৬ এএম

বিভিন্ন দাবিতে সারা দেশে নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট শর্তসাপেক্ষে প্রত্যাহার করেছে একটি অংশ। তবে অনড় অবস্থানে রয়েছে নৌ-শ্রমিকদের অন্য একটি অংশ।গতকাল বুধবার রাতে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের সঙ্গে বৈঠক শেষে কর্মবিরতি প্রত্যহার করে শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এই পরিষদের মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক লীগ। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নৌপরিবহন খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক দেওয়ার বিষয়ে মনিটরিংয়ের জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তর তাদের বার্ষিক সার্ভে চেক লিস্টে অন্তভূ©ক্ত করবে। এ খাতের শ্রমিকদের খাদ্যভাতা দেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এ প্রসঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে মার্চ ২০২০-এর মধ্যে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তেলবাহী জাহাজ ট্যাংকারের ভাড়া বাড়ানোর দাবি তুললে এ বিষয়ে আগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়। এ ছাড়া মালিকরা তেল পরিবহন রুটে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের অনুরোধ করেন।

বৈঠকে নৌপরিবহন শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও ওয়েলফেয়ার ফান্ড গঠনের বিষয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন নদীর মুখে খনন করে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করতে শ্রমিক নেতারা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেন।

তবে নৌমন্ত্রীর আশ্বাসেও ধর্মঘট থেকে সরে আসেনি নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহার করবে না বলে জানিয়েছে তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গতকাল যারা ধর্মঘট ডেকেছে তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। মালিকদের উসকানিতে তাদের পৃষ্ঠপোষক শ্রমিকরা আমাদের ধর্মঘটকে নষ্ট করার জন্য এই ধর্মঘট ডাকে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে আমরা গিয়েছিলাম। সেখানে মালিকপক্ষের তেমন কোনো লোক না থাকায় চলে এসেছি। সরকার খোরাকি ভাতার কথা বললেও মালিকপক্ষ স্বীকৃতি দেয়নি। এই সমস্যা সমাধানে জাতীয় পর্যায়ে মালিক সমিতির সঙ্গে বসতে হবে।’ ধর্মঘট প্রত্যাহার কারা হবে কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বৃহস্পতিবার (আজ) জানাব।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল সংস্থার সচিব, ছিদ্দিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে যাইনি। আজকে তারা যে দাবি করছে, সেসব বিষয়ে ২০১৬ সালে আমাদের চুক্তি হয়েছিল, যার মেয়াদ ২০২১ সালে শেষ হবে। এরপর আবার নতুন করে চুক্তি হবে। এখন তারা যে দাবি জানিয়ে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে তা অযৌক্তিক।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত