রাজধানীতে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে গিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ করেছে চোর সন্দেহে গ্রেপ্তার এক যুবক। গতকাল বৃহস্পতিবার মুরাদ শিকদার নামে ওই যুবক আজিমপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পালিয়ে রাজধানীর লালবাগ থানায় আত্মসমর্পণ করেন। মুরাদ লালবাগের শহীদ নগরের ৮ নম্বর গলির বাসিন্দা মোহাম্মদ শিকদারের ছেলে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে মুরাদ জানান, বুধবার রাতে বাসায় ঢুকে তাকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে থানার বড় কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে তাকে আজিমপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তাকে ব্যাপক মারধর করে পুলিশ। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। জ্ঞান ফিরলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে টয়লেটে যাওয়ার সময় পাহারায় থাকা পুলিশ সদস্যের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। পরে থানায় গিয়ে আত্মসর্মপণ করেন।
মুরাদের মা শেফালি বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘পোলাডা ঘরে ঘুমাইছিল। পুলিশ আইসা কথা বলার নাম কইরা হ্যান্ডকাফ পরাইয়া তারে নিয়া গেল। রাতে কি মাইরটাই না মারছে। পিটাইয়া হাত-পা ফুলাইয়া ফালাইছে।’
মুরাদের বাবা মোহাম্মদ শিকদার বলেন, ‘পোলাডা জান বাঁচাইতে ফাঁড়ি থেইকা পলাইয়া থানায় আত্মসমর্পণ করছে। আমার ছেলে চোর না, স্টিলের কারখানায় চাকরি করে।’
এদিকে বাসা থেকে মুরাদকে ফাঁড়িতে নেওয়া ও ফাঁড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে পুলিশ। তবে তাদের দাবি, এ ঘটনায় মুরাদকে কোনো মারধর করা হয়নি। এছাড়া পালিয়ে যাওয়ার পর তল্লাশি অভিযান চালিয়ে মুরাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজিমপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ বিনয় কুমার রায় দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ১৭ নভেম্বর আজিমপুর কলোনিতে ১/১ অফিসার্স পোস্টাল কোয়ার্টারের বাসিন্দা রুহুল আমিনের বাসা থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি হয়। এ ঘটনায় গত ২৫ নভেম্বর থানায় একটি মামলা হয়। তদন্ত করতে গিয়ে মুরাদের নাম আসে। সে গ্রিলকাটা চোর চক্রের সদস্য। এ কারণে সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার নাম করে হ্যান্ডকাফসহ সে পালিয়ে যায়। ওই রাতেই তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়। লালবাগ থানার ওসি আশরাফ উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ কথা সত্যি যে আসামি ফাঁড়ি থেকে পালিয়েছিল। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে।’
