আদালতে দুজনের স্বীকারোক্তি

স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে খুন হন রেলকর্মী মাহাবুব

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:২৫ পিএম

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের জেরেই খুন হয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মচারী মাহাবুবুর রহমান। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল আদালতে বিচারক শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর কাছে এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বক্তব্য দেন তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার (৩০) ও চাচাতো ভাই হাসিব মিয়া (২২)।

গত বৃহস্পতিবার সকালে শহরের চ-ীবের কামাল সরকার বাড়ির শোবারঘর থেকে মাহাবুবের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ডাকাতরা তার স্বামীকে হত্যা করে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নেওয়ার অভিযোগ করেন।

খুনের পরদিন শুক্রবার সকালে মৃত মাহবুবের বড় ভাই সাংবাদিক হাবিবুর রহমান অজ্ঞাত তিন-চানজনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা করেন। পরদিন শনিবার সকালে পুলিশ চাচাতো ভাই হাসিব মিয়াকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে হাসিব খুনের পুরো ঘটনা খুলে বলেন বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ভৈরব থানার ওসি (তদন্ত) বাহালুল খান বাহার।

তিনি আরও জানান, হাসিবের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাড়ির পাশের একটি কচুক্ষেত থেকে খুনের সময় ব্যবহার করা হাসিবের রক্তমাখা জামা-কাপড় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিহত মাহাবুবের স্ত্রী রোকসানাকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হাসিবের পর রোকসানাও পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেন বলে জানান তিনি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা বাহালুল আলম খান বাহার আরও জানান, শুরু থেকেই নিহতের স্ত্রীকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। আর মুঠোফোনের সূত্র ধরে হাসিবকে শনাক্ত করা হয়। হাসিব রোকসানার সঙ্গে প্রেমের কথা স্বীকার করেন। তারা মনে করেছিলেন, মাহাবুবকে সরিয়ে দিতে পারলে তাদের পথের বাধা দূর হয়ে যাবে। এরপরই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন দুজন।

তিনি জানান, রোখসানা তাদের কাছে স্বীকার করেছেন যে পায়েসের সঙ্গে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে মাহাবুবকে খাওয়ানো হয়। এতে মাহাবুব অচেতন হয়ে ঘুমিয়ে পড়লে রাত তিনটার দিকে তিনি দরজা খুলে দিলে হাসিব ঘরে ঢোকেন। পরে মাহাবুবকে হত্যা করা হয়।

মাহাবুব বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগের এসএস ফিটার পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি শহরের চ-ীবের কামাল সরকার বাড়ির মরহুম হাজী খলিলুর রহমানের ছেলে। প্রায় ১২ বছর আগে নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের সহিদ মিয়ার মেয়ে রোকসানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। মাহাবুব-রোকসানার সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়েসন্তান রয়েছে।

হাসিব সম্পর্কে মাহাবুবের চাচাতো ভাই। তার বাবার নাম বাবুল মিয়া। তিনি উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের শিমুলকান্দি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত