উবার মোটরসাইকেল থেকে পড়ে ইডেন ছাত্রীর মৃত্যু

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৫২ এএম

স্বপ্ন ছিল টেলিভিশনে নিউজ প্রেজেন্টার হবেন।  ‘নিউজ প্রেজেন্টেশন’ নামে একটি কোর্সে ভর্তি হয়ে আড়াই মাস ধরে কোচিংও করছিলেন ইডেন মহিলা কলেজের মাস্টার্সের ছাত্রী আকলিমা আক্তার ওরফে জুলিয়া জুঁই (২৩)। কিন্তু সেই স্বপ্ন নিয়ে নিজেই হয়ে গেলেন মর্মান্তিক ‘নিউজ’। অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ার উবারের মোটরসাইকেল থেকে পড়ে মারা গেলেন জুঁই। 

গত শনিবার মিরপুরের বাসা থেকে ফার্মগেটে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন জুঁই। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবশেষ গতকাল সোমবার মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি। জুঁই ইডেন মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান

বিভাগের ছাত্রী ছিলেন।

জুঁয়ের বাবা আবুল কালাম বলেন, ‘পড়ালেখার পাশাপাশি জুঁই ফার্মগেট এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করত এবং নিজেও কোচিং করত। শনিবার সকালে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য উবারের মোটরসাইকেলে করে ফার্মগেট যাচ্ছিল। বিজয় সরণিতে সিগন্যালে তাকে বহনকারী মোটরসাইকেলটি থামে। সিগন্যাল ছাড়ার পর চালক দ্রুতগতিতে চালানো শুরু করলে মোটরসাইকেলের পেছন থেকে পড়ে যায় সে। এতে তার মাথায় থাকা হেলমেট ভেঙে যায় এবং গুরুতর জখম হয়। পরে পথচারীরা তাকে আল রাজী হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।’

জুঁইয়ের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামে। পরিবারের সঙ্গে মিরপুরের পূর্ব কাজীপাড়া ৫০৩ নম্বর বাড়িতে থাকতেন। তিন বোনের মধ্যে আকলিমা ছোট। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো মামলা করবেন না বাবা।

জুঁইয়ের সহপাঠী শামীমা ফেরদৌস লিনা বলেন, জুঁই গত শুক্রবার তার ফেইসবুক ওয়ালের এক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করে, ‘শুধু নক্ষত্রের ঝরে পড়া দেখে দেখে রাত বাড়ে, বেলা যায়Ñ  অপেক্ষায় ঝরে পড়ে স্বপ্নময় চোখ।’ সেই জুঁইয়ের স্বপ্ন মাটিতে মিশে গেল। জুঁইয়ের মৃত্যুর পরই স্বজন ও সহপাঠীদের কান্নায় ঢামেক হাসপাতাল এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়।

জুঁইয়ের বাবা বলেন, ‘পড়ে গিয়ে আমার মেয়ে চালক সুমনকে শুধু বলেছিল, ভাই আমাকে একটু বাঁচান। আর একটি কথাও বলতে পারেনি আমার মেয়ে। আমার মেয়ের মাথায় কোনো আঘাতও দেখা যায়নি। শুধু কান দিয়ে রক্ত ঝরছিল। পরে উবার চালক সুমনই তাকে হাসপাতালে নেন।’

তিনি চোখের পানি ছেড়ে বলেন, ‘আমার মা চলে গেছে। এতে আমি কারোরই দোষ দেব না। আমার মায়ের হায়াত নাই। আল্লাহ তারে নিয়ে গেছেন।’

তেজগাঁও থানার ওসি শামীম উর রশিদ জানান, সড়ক দুর্ঘটায় ইডেন কলেজ শিক্ষার্থীর চিকিৎসাধীন মৃত্যুর খবরটি শুনেছি। পরিবার যদি মামলা করে তাহলে মামলা নেওয়া হবে। তার পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত