স্বর্ণপদক জয়ের পরদিনই হাসপাতালে প্রিয়া

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:৪৬ এএম

আগের দিন সোনা জয়ের আনন্দে দেশকে ভাসিয়েছিলেন মারজান আক্তার প্রিয়া। গতকাল এই কারাতেকাকে নিয়েই দারুণ দুশ্চিন্তার কয়েক ঘণ্টা কেটেছে বাংলাদেশে শীর্ষ কর্তাসহ সবার। মেয়েদের দলগত কুমিতে খেলতে নেমে ঘাড়ে চোট পান প্রিয়া। শ্রীলঙ্কার প্রতিপক্ষের একটা আক্রমণে মাটিতে পড়ে যান তিনি। একবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও মাথা ঘুরিয়ে আবার ম্যাটে আছড়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ম্যাচ থেকে বের করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। দু’একবার কয়েক সেকেন্ডের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন তিনি। তাই দেরি না করে পাঠানো হয় হাসপাতালে। সেখানে সিটিস্ক্যান ও এক্স-রে করে অবশ্য তেমন কোনো সমস্যা পাননি বিষেশজ্ঞ চিকিৎসক। কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। চোটটা গুরুতর ছিল না। তবে এই কয়েকটা ঘণ্টা সবাইকে দারুণ দুশ্চিন্তায় রেখেছিলেন মেয়েদের অনূর্ধ্ব-৫৫ কেজি কুমিতে ইভেন্টে সোনাজয়ী প্রিয়া।

হাসপাতালে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে খবর দেন। হাসপাতালে আসার পরও প্রিয়া বারবার অল্প সময়ের জন্য জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। জ্ঞান ফিরলেই বলছিলেন ঘাড়ের বাঁ পাশে ব্যথা অনুভবের কথা। সিনিয়র কনসালটেন্ট ও নিউরো সার্জন অভিষেক চতুর্ভেদী এসে তাকে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে সিটি স্ক্যান ও এক্স-রে’র পরামর্শ দেন। ততক্ষণে হাসপাতালে হাজির হয়ে গেছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা থেকে শুরু করে শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা। সবার চোখেমুখেই তখন দুশ্চিন্তার ছাপ। রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক জানান, ‘ঘাড়ে বা মাথায় আঘাত লাগলে একটা কনকাশনের মতো হতে পারে। তবে ভয়ের কিছু নেই। ওর সব কিছুই স্বাভাবিক আছে। তাকে সাতদিনের ওষুধ দেওয়া হয়েছে। তবে এই ক’দিন ওকে খেলা থেকে দূরে থাকতে হবে। বিশ্রাম নিতে হবে।’ পরে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের দুই চিকিৎসক এসে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণের পর প্রিয়ার অবস্থা জানালে সবাই নিশ্চিন্ত হন।

সাতদোবাদো স্পোর্টস কমপ্লেক্সে মেয়েদের দলগত কুমিতে দলটি গড়া হয়েছিল মারজান আক্তার প্রিয়া, হুমায়রা আক্তার অন্তরা, মাউনজেরা বর্ণা এবং নাইমা খাতুনকে নিয়ে। এর মধ্যে প্রথম তিনজন সেমিফাইনালের লড়াইয়ে নামেন শ্রীলঙ্কার প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে। প্রিয়ার খেলা শুরুর পর এক পয়েন্টে পিছিয়ে ছিলেন। এ অবস্থায় শ্রীলঙ্কার প্রতিপক্ষের প্রিয়ার কান লক্ষ্য করে পাঞ্চ করতে থাকেন। একটা পাঞ্চে প্রিয়া মারাত্মক ব্যথা পেয়ে লুটিয়ে পড়েন ম্যাটে। প্রিয়াকে নিয়ে হাসপাতালে আসা এক সতীর্থ আবিদা সুলতানার বর্ণনায়, ‘শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমাদের সেকেন্ড বাউটের খেলা ছিল। তিনজন করে খেলা প্রথম বাউটে মাউনজেরা জিতে যায়। তবে শ্রীলঙ্কানরা অনেক জোরে জোরে পাঞ্চ করছিল। সাধারণত এ ধরনের হিটে রেফারিরা ফাউল দেন। মাউনজেরাও ব্যথা পেয়েছেন। প্রিয়ার ম্যাচের সময়ও একই অবস্থা। প্রতিপক্ষ হেভিওয়েট প্লেয়ার ছিল। তার পাঞ্চগুলো জোরে লেগেছে। তাই ব্যথা পেয়ে পড়ে যায়।’ প্রিয়াকে দেখে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে বিওএ মহাসচিব বলেন, ‘ও এখন অনেকটাই সুস্থ। ওকে নিয়ে যাওয়া হবে টিম হোটেলে। একটু তো দুশ্চিন্তা হচ্ছিলই। তবে চিকিৎসকরা চিন্তা করতে নিষেধ করেছেন।’

প্রিয়া চোট পাওয়ায় মেয়েদের দলগত কুমিতে ফাইনালে উঠেও স্বর্ণপদক জিততে পারেনি দল। তার বিকল্প নাইমা নেমে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে জিততে পারেননি। এ নিয়ে আফসোস ঝরলো বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ক্য শৈ হ্লা-এর কণ্ঠে, ‘ও থাকলে হয়তো আমরা আরেকটা স্বর্ণপদক জিতে যেতাম। কিন্তু শ্রীলঙ্কানরা এত বাজেভাবে আঘাত করেছে যে কারণে ওকে হাসপাতাল পর্যন্ত যেতে হলো।’

আগের দিন সোনার পদক এনে দেওয়া প্রিয়া সুস্থ হয়ে হোটেলে ফিরে শুনেছেন রৌপ্যপদক জয়ের কথা। সেটাই বা কম কীসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত