শৈশবের শিক্ষার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘কানাকে কানা আর খোঁড়াকে খোঁড়া বলো না শৈশব থেকে আমরা এই শিক্ষা পেয়েছি।’ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পর্কে ‘নেতিবাচক মানসিকতা’ পরিহার করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যাপারে আমাদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে ২৮তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস ও ২১তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস ২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবনির্মিত জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন কমপ্লেক্স ‘সুবর্ণ ভবন’ উদ্বোধন করেন তিনি।
অটিজম অথবা প্রতিবন্ধিতা কোনো রোগ অথবা অসুস্থতা নয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে অটিজম অথবা প্রতিবন্ধিতায় যারা ভুগছেন তারা সমাজের মূলধারার সঙ্গে বসবাস করতে পারেন। সবার জন্য সব মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে তার
সরকার বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় বলে আশা প্রকাশ করেন।’
প্রতিবন্ধিতায় যেসব শিশু ভুগছেন তাদের পিতামাতার জন্য এটি খুবই বেদনাদায়ক উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আমরা তাদের এই দুর্দশা নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।
প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিবরণ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩; নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩ এবং পুনর্বাসন কাউন্সিল আইন ২০১৮ প্রণয়ন করেছি।’
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের আরও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যাতে তাদের অন্যদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন না হয়। তিনি বলেন, ‘কেবল আর্থিক সহায়তা প্রদান নয়, বরং এই ফাউন্ডেশন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সাহায্য করতে পারে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা এমনকি কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তার সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।’ সামাজিক নিরাপত্তা বলয় কর্মসূচির অধীনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাতা প্রদান করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের স্টাইপেন্ড ও বৃত্তি প্রদান করছি।’
তিনি বলেন, ৮০ কোটি টাকা খরচ করে আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশিক্ষণ, খেলধুলা, পুনর্বাসন, গৃহায়ন এবং বিনোদনসহ বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে ‘সুবর্ণ ভবন’ নির্মাণ করেছি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় প্রতিবন্ধী বালক-বালিকাদের সাফল্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার তাদের জন্য বিভিন্ন ক্রীড়া ও খেলাধুলার ওপর বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে। তিনি বলেন, শিগগির এ ব্যাপারে একটি প্রকল্প অনুমোদন করার পর আমরা তাদের জন্য একটি কমপ্লেক্স নির্মাণ করব। এছাড়া, আমরা প্রতিবন্ধী শিশুদের খেলাধুলা অনুশীলনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ কমপ্লেক্সে একটি স্থানের উন্নয়ন ঘটাচ্ছি।
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে একটি পরিদপ্তরে উন্নীত করার দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা লাভবান হবে না, বরং কিছুসংখ্যক সরকারি কর্মকর্তা লাভবান হবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফাউন্ডেশনকে একটি পরিদপ্তরে রূপান্তরিত করা সঠিক নয়। ফাউন্ডেশন থাকলে আর্থিক অনুদান আসবে এবং ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে সেবা প্রদান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ফাউন্ডেশন থাকা জরুরি। সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। প্রতিবন্ধী শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী ।
