সিদ্ধেশ্বরীতে পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ের লাশ

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:১৭ এএম

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি উদ্ধারের পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় তার পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। নিহত রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা (২১) বেসরকারি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা পুলিশ পরিদর্শক রোকন উদ্দিন হবিগঞ্জ সদরের একটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ। রমনা থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোড থেকে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। গতকাল রাতে স্বজনরা থানায় লাশের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন।

পুলিশের ধারণা, ধর্ষণের পর একটি ভবনের ছাদ থেকে ফেলে রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

স্বজনরা জানান, রুম্পা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ২৫৫, শান্তিবাগে থাকতেন। এক ভাই ও বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। রুম্পা দুটি টিউশনি করে বুধবার সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন। পরে কাজ আছে বলে বাসা থেকে বের হন। কিন্তু রাতে আর বাসায় ফিরে আসেননি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। পরিচয় যখন পাওয়া গেছে, শিগগিরই এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা যাবে।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, রুম্পার লাশ অজ্ঞাত হিসেবে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। শরীরের একাধিক জায়গায় জখম ছিল। অনেক উঁচু থেকে পড়ার কারণে তার মৃত্যু হয়। সে উপর থেকে লাফিয়ে পড়েছে, নাকি কেউ ফেলে দিয়েছে তা কখনই চিকিৎসকের পক্ষে বলা সম্ভব নয়। তবে মৃত্যুর আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না তা পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত হতে মৃতদেহ থেকে হাইভেজেনাল সপ, ভিসেরা ও ব্লাড সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ফল এলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এর আগে লাশটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন রমনা থানার এসআই আবুল খায়ের। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তরুণীর নাকে রক্তাক্ত জখম, বুকের ডান পাশে দাগ আছে। মেরুদ-ের হাড়, বাম হাতের কনুই ও ডান পায়ের গোড়ালির ওপর ভাঙা।

গতকাল রাতে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, রাতে রুম্পার বাবাকে মাইক্রোবাসে করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেয়ের মৃত্যুর খবর তাকে জানানো হয়নি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত