প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষায় জাতীয় জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:৫২ এএম

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। দেশের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় সবার মধ্যে জাতীয় জাগরণ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অডিটরিয়ামে কমিটি আয়োজিত জাতীয় কনভেনশনে বক্তারা এ আহ্বান জানান।

ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ হুমকির মধ্যে রয়েছে। এই বিপদ মোকাবিলার জন্য উপকূল হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ সরকার সেই উপকূল রক্ষা না করে ধ্বংসের সব আয়োজন সম্পন্ন করছে। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন বাংলাদেশের ফুসফুস জীবন রক্ষাকারী প্রাকৃতিক ঢাল। সেই সুন্দরবনের পরিবেশ ধ্বংসের বিরাট ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের সবাইকে মিলে এই ষড়যন্ত্র রুখতে হবে।

কনভেনশনে সুলতানা কামাল বলেন,  প্রাণ, প্রকৃতি, মানুষের ন্যায্য অধিকারের আশায় আমরা যুদ্ধ করেছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম মানzষের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো সুরক্ষিত থাকবে। অথচ স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও সেই সব প্রত্যাশার কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো দেশের প্রাণ, প্রকৃতি বিপর্যয় হয়েছে। মানুষ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার জনবান্ধব ও নারীবান্ধব সরকার থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। তারা এখন শুধু ব্যবসা কিংবা ব্যবসায়ীবান্ধব সরকারে পরিণত হয়েছে।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, যে সময়ে আমাদের কনভেনশন করছি, তখন দেশে উন্নয়নের জোয়ার চলছে। এসব উন্নয়নের নামে দেশের প্রাণ, প্রকৃতি ধ্বংসের আয়োজন চলছে। উপকূলজুড়ে প্রায় ২২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে জলবায়ুর ক্ষতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য আবার চক্রান্ত করছে। অবশ্য এটার কারণও রয়েছে। সরকার যে ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা করছে তাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় নেই। কারণ তাদের লক্ষ¨ হচ্ছে দেশের মানুষকে বিদ্যুতের সুবিধা দেওয়া নয়, বিদ্যুৎ সরবরাহের নামে বিদেশি কোম্পানিকে ব্যবসা দেওয়া। আর বিদেশি প্রভুদের খুশি করে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা।

কনভেনশনে সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মো. শহীদুল্লাহ সুন্দরবন ও উপকূলবিনাশী কয়লাবিদ্যুৎ বন্ধ, গ্যাস রপ্তানিমুখী ‘পিএসসি ২০১৯’ বাতিল এবং সুলভ-টেকসই-পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জাতীয় কমিটির বিকল্প মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ ৫ পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত