দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশ

শিবচরের সেই চিকিৎসককে শাস্তিমূলক বদলি

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:১৪ এএম

সরকারি দায়িত্বে ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে বসে রোগী দেখা মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেই চিকিৎসক মইনুল ইসলামকে তার কর্মস্থল থেকে বদলি করা হয়েছে। গত ৫ ডিসেম্বর দৈনিক দেশ রূপান্তরে এই চিকিৎসককে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এ ব্যবস্থা নেওয়া হলো। কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলির পাশাপাশি চিকিৎসক মইনুল দায়িত্ব পালনে অবহেলা করছেন কি না তা নজরদারি করা হবে বলেও দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. শফিকুল ইসলাম।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম এ মোকাদ্দেস হোসেন শাহীন দেশ রূপান্তরকে জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠার পর সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে চিঠি দিয়ে চিকিৎসক মইনুলকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। তাকে আজ মঙ্গলবার বিকালের মধ্যে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম গতকাল বিকালে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অফিস সময়ে বাইরের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অবস্থান করা একটি ধৃষ্টতামূলক কাজ। চিকিৎসক মইনুলকে এর আগেও একই অভিযোগে শোকজ করা হয়েছিল। এবারও তার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে জাতীয় পত্রিকাসহ কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হয়। কিন্তু তখন আমি দুদিনের ছুটিতে থাকায় শনিবার অফিসে এসে সব কাজ শেষ করে বিকালে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মইনুলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠাই। পরে রবিবার বিকালে তাকে বদলির বিষয়ে সিভিল সার্জন অফিস থেকে চিঠি পাঠানো হয়।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডা. মইনুল ইসলামকে এর আগেও কয়েকবার সাবধান করা হয়েছিল। এবার তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে ওই হাসপাতাল থেকে অন্য স্থানে সরানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ ব্যবস্থা নিয়েছি। এছাড়া তার কর্মকাণ্ডের প্রতিও বিশেষ নজর রাখা হবে। যদি তিনি একই রকম কাজ আবারও করেন তবে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগ ছিল, চিকিৎসক মইনুল ইসলাম প্রায় দিনই অফিস সময়ে উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়ে রোগী দেখার পাশাপাশি আল্ট্রাসনোগ্রাম করে থাকেন। এ নিয়ে গত ৫ ডিসেম্বর দৈনিক দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো পরিদর্শন করেন এবং সব হাসপাতালকে সাবধান করেন। কোনো হাসপাতালে যদি সরকারি চিকিৎসকরা অফিস সময়ে রোগী দেখেন, তাহলে তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মইনুল ইসলাম নামে একজন ডাক্তারের সরকারি হাসপাতাল রেখে অফিস সময়ে প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী ও চিকিৎসা দেওয়ার খবর সাংবাদিক ও পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরে উপজেলার প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করি। কিন্ত সে সময় কাউকে পাইনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত