গাজীপুরের কালীগঞ্জে পুলিশের পোশাক পরে পাঁচটি সোনার দোকানসহ মোট ৭ দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে বাজার এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পাঁচটি সোনার দোকান থেকে প্রায় ৫৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৩৪০ ভরি রুপা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। এ ছাড়া দুটি দোকান ও একটি মুরগির পিকআপ ভ্যান থেকে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা লুটে নিয়েছে ডাকাতরা। স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করা দোকানগুলো হচ্ছে উলুখোলা বাজারের সোনালী জুয়েলার্স, রাজীব জুয়েলার্স, শিল্পী জুয়েলার্স, সন্দীপ জুয়েলার্স, রূপশ্রী জুয়েলার্স, একটি চায়ের দোকান ও মুরগির একটি দোকান।
ডাকাতির খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম ও পংকজ দত্ত, কালীগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম মিজানুল হক।
বাজারে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা প্রহরীদের বরাত দিয়ে নাগরী ইউপির সদস্য বাবলু গাব্রিয়েল রোজারিও জানান রাত ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে পুলিশের পোশাক পরা ৩০/৪০ জনের একটি ডাকাত দল বাজারে ঢোকে। তারা প্রথমে বাজারে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৭ প্রহরী ও বেশ কয়েকজন দোকানদারকে একটি দোকানে আটকে রাখে। এরপর ডাকাতি করে পালিয়ে যায়।
রাজীব জুয়েলার্সের এক কর্মচারী জানান, রাত ২টার দিকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে দোকানের শাটার খুলতে বলে। বাজারের প্রায় ২০০ গজ দূরে পুলিশ ফাঁড়ি। তাই পুলিশ ভেবে দোকানের শাটার খুলে দেখি ১২/১৩ জন লোক দাঁড়ানো। এদের মধ্যে ৬/৭ জনের গায়ে পুলিশের পোশাক, হাতে ওয়াকিটকি ও অস্ত্র ছিল। অন্যদের গায়ে কালো পোশাক ও মুখোশ পরা ছিল। পরে ডাকাতরা তাকে বেঁধে নিরাপত্তা প্রহরীদের সঙ্গে আটকে রাখে।
সন্দীপ জুয়েলার্সের মালিক সুকান্ত জানান, ‘বাজারের এত কাছে পুলিশ ফাঁড়ি। কিন্তু ডাকাতির এমন ঘটনা আমাদের বিস্মিত করেছে। আমরা একেবারে সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম।’
উলুখোলা ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রূপন চন্দ্র সরকার সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ওই সময় নাগরী বাজারে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কালীগঞ্জ থানার ওসি জানান পুলিশ ঘটনা তদন্তে কাজ শুরু করেছে।
