২০১৭ সালে নতুন করে রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপের মুখে পড়ে মিয়ানমার। তখন থেকেই দেশটিতে নতুন বিনিয়োগ থেকে সরে যায় পশ্চিমা এসব দেশের কোম্পানিগুলো। ২০১৮ অর্থবছরে মিয়ানমারে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবৃদ্ধি কমে যায় ৭৬ শতাংশ। তবে সে ধাক্কা খুব একটা কাবু করতে পারেনি মিয়ানমারের অর্থনীতিকে। এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতি চীন, হংকং ও সিঙ্গাপুরের বিপুল বিনিয়োগে পশ্চিমা চাপ সামলে সামনে এগেচ্ছে মিয়ানমারের অর্থনীতি। গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এফডিআই বেড়েছে ৪৫ শতাংশেরও বেশি, যার বড় অংশই এসেছে চীন, হংকং ও সিঙ্গাপুর থেকে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালানোর পর পশ্চিমা দেশগুলোর বিনিয়োগকারীরা মিয়ানমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও গত অর্থবছর দেশটিতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে এশিয়ার এই তিন অর্থনীতি। এছাড়া রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনার পর ২০১৭ ও ’১৮ সালে মিয়ানমারে বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ অনেক কমলেও ২০১৯ সালে বাড়তে শুরু করেছে।
২০১৯ অর্থবছরে মিয়ানমারের রপ্তানি বেড়েছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। এ সময়ে আমদানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ভ্রমণ ও এফডিআই বিপুল পরিমাণ বেড়েছে। অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ বেড়েছে ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ। আগের বছর একই সময়ে এটি ছিল ৪ শতাংশ।
মিয়ানমারে এফডিআই বৃদ্ধি সম্পর্কে এডিবি বলেছে, ‘২০১৯ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এফডিআই বেড়েছে ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ, আগের বছর একই সময়ে এটি ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল। সংঘাতপূর্ণ পরিবেশের কারণে পশ্চিমা বিনিয়োগকারীরা দূরে সরে গেলেও এশিয়ার দেশগুলো থেকে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে, বিশেষ করে হংকং, চীন ও সিঙ্গাপুর থেকে। এসব বিদেশি বিনিয়োগের বড় অংশই যাচ্ছে দেশটির পরিবহন, যোগাযোগ ও শিল্প খাতে। তাতে এবার ও আগামী বছর মিয়ানমারের প্রবৃদ্ধি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ গত ফেব্রম্নয়ারিতে মিয়ানমার বিনিয়োগ সম্মেলন করেছে, সেখানেও পশ্চিমা দেশগুলোর কোম্পানি খুব একটা সাড়া না দিলেও চীন, ভারত, জাপান, হংকং ও সিঙ্গাপুরের কোম্পানিগুলো বড় বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছে।
মিয়ানমারের ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড কোম্পানি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত দেশটিতে যত বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে, তার প্রায় ২৬ শতাংশ করেছে চীন। সিঙ্গাপুরও প্রায় সমপরিমাণ বিনিয়োগ করেছে দেশটিতে। পরের শীর্ষ বিনিয়োগকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে থাইল্যান্ড, হংকং, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, জাপান ও ভারত।
