ভারতের নাগরিকত্ব আইন উপমহাদেশে সংঘাতের সৃষ্টি করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ভারতের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘এটি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। এই আইন উপমহাদেশে সংঘাতের
সৃষ্টি করবে।’
গতকাল শনিবার মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপি আজ আলোচনা সভা করবে। রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট অডিটরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ভারতের নাগরিকত্ব আইনের ফলে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে বাংলাদেশ থেকে যারা ভারতে গেছেন, তারা নাগরিকত্ব পাবেন বলে নাগরিকপঞ্জিতে বলা হয়েছে। তা ছাড়া বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মুসলিমরা নাগরিকত্ব পাবেন না বলেও নতুন নাগরিকত্ব আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব এই আইনকে সাম্প্রদায়িক আইন মন্তব্য করে বলেন, ভারতের এই আইনের কারণে বাংলাদেশে শুধু নয়, সমগ্র উপমহাদেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে, সংঘাতের সৃষ্টি করবে। উপমহাদেশের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, উদারপন্থি রাজনীতিকে ধ্বংস করে দিয়ে একটা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার প্রয়াস করা হচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন না হওয়া প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার বন্দিদশার জন্য সরকার দায়ী। আজকে একটা গণতন্ত্রবিহীন, গণতন্ত্রের অধিকারবিহীন একটি অবস্থার মধ্যে জনগণ বাস করছে। আজকে শুধু আমাদের নেত্রী কারাগারে তা নয়, মিথ্যা মামলায় আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে। মিথ্যা মামলা দিয়ে গণতান্ত্রিক দলগুলোকে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ সময়ে আজকে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন যেটা, সেটা হলো সমস্ত জাতির ঐক্য। আজকে সমস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করতে হবে, লড়াই করতে হবে।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের কথা স্মরণ করে ফখরুল বলেন, আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র রক্ষার জন্য যে দেশ স্বাধীন হয়েছিল সেই দেশকে এই অগণতান্ত্রিক সরকার খান খান করে দিয়েছে। বাংলাদেশের এবং জাতির সমস্ত অর্জন ধ্বংস করে দিয়েছে এই সরকার। আমরা আজকে গণতন্ত্রবিহীন জনগণের অধিকারবিহীন একটা অবস্থায় বসবাস করছি। আজকে এই দিনে আমাদের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পথ অনুসরণ করে দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করার জন্য, দেশের সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করার জন্য, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা আমাদের সংগ্রামের গতি আরও বাড়াব। সংগ্রামকে আরও বেগবান করব।
