ভারত সফর চলাকালে টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক বলেছিলেন, মিডিয়ার লেখা-লেখির কারণে চাপে পড়ে যান তারা। বিপিএলের ঢাকা পর্বে ইমরুল কায়েস বললেন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের কারণেই জাতীয় দলে পারফর্ম করতে পারেন না। এবার মুমিনুল-ইমরুলের কাতারে যোগ দিলেন লিটন দাস।
মুমিনুল-ইমরুল মিডিয়াকে কাঠগড়ায় তুললেও বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা সরাসরিই বলেছিলেন, মিডিয়াকে দোষ দিয়ে ভালো খেলার উপায় নেই। সতীর্থদের মাশরাফী পরামর্শও দিয়েছিলেন, ‘এসব কারো মানসিকভাবে ঝামেলা করলে, এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। বড় খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেটাই শুনেছি, তারা এটাই করে। যার যা পেশা, সেখানেই থাকা জরুরি। খেলোয়াড় হলে খেলা নিয়েই থাকা উচিত।’
কিন্তু ক্রিকেটারদের মনোজগতে মিডিয়া নিয়ে হয়তো ভিন্ন কিছুই খেলা করছে। নইলে লিটনও কেন যোগ দেবেন মুমিনুল-ইমরুলদের তালিকায়!
বিপিএলে রাজশাহী রয়্যালসের হয়ে খেলছেন লিটন। মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বের খেলা। যেখানে দিনের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হবে রাজশাহী ও খুলনা। তার আগে এদিন রাজশাহীর অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন লিটন। সেখানে প্রসঙ্গক্রমে কলকাতা টেস্ট চলে আসে। যে ম্যাচে মাথায় বলের আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে। পরে কনকাশন বদলি খেলাতে হয়েছে।
ভারতীয় মিডিয়ায় তখন খবর প্রকাশ হয়েছিল- ‘রাতের বল দেখতে অসুবিধা হয় লিটনের।’ এ নিয়ে এদিন প্রশ্ন করা হলে দেশি সাংবাদিকদের প্রতিই লিটনের অনুযোগটা স্পষ্ট হয়ে উঠল।
লিটন উত্তরটা দিলেন এভাবে, ‘ভারতীয় মিডিয়া নাকি আপনারা করছেন? বিষয়টা নির্ভর করে আপনাদের ওপর, আপনারা কীভাবে নিচ্ছেন। যদি আমার বল দেখতে সমস্যা হতো, তাহলে তো প্রথম বল থেকেই খেলতে পারতাম না, এটা নির্ভর করে আপনারা কীভাবে নিয়েছেন।’
‘কালার ব্লাইন্ড (বর্ণান্ধ)’ শব্দটা উল্লেখ করে লিটন যোগ করেন, ‘আমার কাছে অতটা ফ্যাক্টর না, ফ্যাক্টর হচ্ছে অন্য মানুষরা কীভাবে নিচ্ছে। আর আপনাদের একটা নিউজ বা ভারতের একটা নিউজ অনেক মানুষ দেখে। বাংলাদেশের মিডিয়াকে সবাই অনুসরণ করে যারা গ্রামে থাকে, তারা কিন্তু দেখে। এবং চিন্তা করতেই পারে, লিটন মনে হয় কালার ব্লাইন্ড। সরি, কালারের একটু সমস্যা আছে। আপনারা যেভাবে নিউজ দেবেন সেভাবেই নিউজ আসবে।’
এখানেই থামেননি লিটন। বিপিএলের সর্বশেষ আসর ভালো যায়নি। এবার তাই বিশেষ কোনো লক্ষ্য আছে কিনা, এমন প্রশ্নেও মিডিয়ার প্রতি অভিযোগ ফুটে ওঠে লিটনের কণ্ঠে। বলেন, ‘আমি তো পেছনের জিনিস নিয়ে চিন্তাই করছি না। আপনারাই পেছনের জিনিস নিয়ে আমাকে চিন্তা করাচ্ছেন।’
