বিজয় দিবসে স্বজনদের সাক্ষাৎ

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:৪৭ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। গতকাল সোমবার বিকেলে বিজয় দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন পরিবারের সদস্যরা। দেড় ঘণ্টা সাক্ষাৎ শেষে তারা বেরিয়ে আসেন।

খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওনার শরীর খুবই খারাপ। হাঁটাচলা করতে পারছেন না, খেতে পারছেন না, খেলেই বমি হয়ে যাচ্ছে। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এ অবস্থায় তার তো উন্নত চিকিৎসা দরকার। পেটে ব্যথা হচ্ছে, ডাক্তার ওষুধ দিচ্ছে না, চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ আদালতে খালেদা জিয়ার যে শারীরিক অবস্থার রিপোর্ট দিয়েছে তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। হাসপাতালে তার ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না। এভাবে তিনি কীভাবে বাঁচবেন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খালেদা জিয়ার এক স্বজন দেশ রূপান্তরকে দাবি করে বলেন, ‘এভাবে দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণহীন থাকলে যেকোনো দিন তার যেকোনো অকেজো হয়ে যেতে পারে। এমনকি শরীরে পচন ধরতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নেই। খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা ১২-র নিচে কোনো দিনই নামেনি। আজ (গতকাল) খালি পেটে তার সুগার ছিল ১৪/১৫। ১২/১৪ ঘণ্টা না খেয়ে আছে, তারপরও খালি পেটে ব্লাড সুগার ১৪/১৫।’

তবে খালেদা জিয়ার স্বজনের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউর মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও খালেদা জিয়ার জন্য হাসপাতাল গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক জিলন মিয়া সরকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় খালেদা জিয়ার ব্লাড সুগার ছিল ১২.৩। আগে তো ২২/২৪ উঠত। ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ালে নিয়ন্ত্রণে আসত। কিন্তু ওনাকে ১৪ ইউনিট ইনসুলিন দেওয়া হয়।’

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডায়াবেটিসকে বলা হয় নীরব ঘাতক। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে একজন রোগী ধীরে ধীরে কঠিন পরিণতির দিকে চলে যায়। নেত্রীর নিয়ন্ত্রণহীন ডায়াবেটিসের কারণে যেকোনো সময় যেকোনো অঘটন ঘটে যেতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের যে কেবিনে তাকে রাখা হয়েছে তা ছোট্ট একটি কক্ষ। খোলা জায়গা নেই। অন্যের সাহায্য ছাড়া তিনি চলতে পারেন না। তাই তাকে নিয়ে কেউ হাঁটবে তাও সম্ভব নয়।’

দীর্ঘ এক মাস পর গতকাল বেলা ৩টায় পরিবারের সদস্যরা বিএসএমএমইউতে আসেন। এ সময় বোন সেলিমা ইসলাম ছাড়াও ছিলেন তার স্বামী রফিকুল ইসলাম, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা এবং শামীম এস্কান্দারের  ছেলে অভিক এস্কান্দার।

গত ১৪ ডিসেম্বর স্বজনরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য বাসা থেকে বের হলেও পরে তাদের জানানো হয় উচ্চতর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সাক্ষাতের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার স্বজনরা সাক্ষাৎ করেছিলেন।

গত ১ এপ্রিল থেকে খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউর ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সাজা দেয়। সেদিনই তাকে কারাগারে নেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত