পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটের ‘মুন সিনেমা’ হলের জায়গা ও সম্পত্তি বাবদ ৯৯ কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার টাকার চেক পেলেন ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাকসুদুল আলম। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বেঞ্চে তার হাতে এ চেক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় মুন সিনেমা হলের জায়গা এবং ওই সম্পত্তি ‘আজকাল’ বা ‘সুবিধাজনক সময়ের মধ্যে’ হস্তান্তর করার অঙ্গীকার করেন মাকসুদুল আলম ও তার নিয়োজিত আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বহুল আলোচিত মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের রায় এসেছিল। মামলা নথিপত্র অনুযায়ী, ওয়াইজঘাটের একসময়ের মুন সিনেমা হলের মালিকানা ছিল ইটালিয়ান মার্বেল লিমিটেডের। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এ সম্পত্তি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এক সামরিক ফরমানে বলা হয়, কোনো সম্পত্তি রাষ্ট্র কতৃ©ক পরিত্যক্ত ঘোষণা করলে আদালতে তা চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। এরপর সম্পত্তি ফিরে পেতে ওই সামরিক ফরমানসহ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে ইটালিয়ান মার্বেল। শুনানি নিয়ে ২০০৫ সালে ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট এক রায়ে খন্দকার মোশতাক, আবু সায়েম ও জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণকে অবৈধ ঘোষণা করে। রায়ের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ফেব্রম্নয়ারিতে আপিল করা হলে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। পাশাপাশি ৯০ দিনের মধ্যে ইটালিয়ান মার্বেলকে মুন সিনেমা হলের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
সম্পত্তি ফিরে না পেয়ে ২০১২ সালের ১০ জানুয়ারিতে ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের এমডিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করে। এরই ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগ ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি এক নির্দেশনায় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীকে দিয়ে ওই জমি ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণের নির্দেশ দেয়। এরপর এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। গত বছর ১০ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ এক আদেশে মুন সিনেমা হলের জমি ও স্থাপনা বাবদ ৯৯ কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার ইটালিয়ান মার্বেলকে দিতে নির্দেশ দেয়। এরপর ১৮ জানুয়ারি সর্বোচ্চ আদালত এক আদেশে এই অর্থ তিন কিিস্ততে পরিশোধ করতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও এর এমডিকে নির্দেশ দেয়। পরে একই বছরের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, সম্পত্তির মূল্য হিসেবে মুন সিনেমা হলের মালিক ইটালিয়ান মার্বেলকে সরকারের পক্ষ থেকে ৯৯ কোটি ৭৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
