সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ রোহিঙ্গা-মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের সংলাপ

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:০৯ এএম

কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দফা সংলাপ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে এ সংলাপ শেষ হয়। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তৃতীয়বারের মতো কথা বলতে

গত বুধবার দুদিনের সফরে কক্সবাজারে আসে মিয়ানমার ও আসিয়ানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলটি রোহিঙ্গাদের ৪৭ প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করেন। সংলাপ শেষে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

 আন্তর্জাতিক সংস্থার মহাপরিচালক চ্যান অ্যায়ে বলেন, ‘আমরা দুদিন ধরে সংলাপ করেছি। বরাবরই তারা (রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করেননি) আমাদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া দিয়েছেন, আমরা শুনেছি। বিষয়টি মিয়ানমারে ফেরত গিয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরব এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।’

রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতারা বলেছেন, সংলাপে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরে যেতে প্রতিনিধিদলটি বারবার অনুরোধ করেছে। বিদেশি পরিচয়ে প্রথমে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড (এনভিসি) নিতে হবে। এরপর মিয়ানমার যাচাইবাছাই করে নাগরিকত্ব প্রদান করবে। এটি আমরা বরাবরের মতো প্রত্যাখ্যান করেছি। কারণ সেখানে গিয়ে পুনরায় নির্যাতনের শিকার হওয়ার চেয়ে বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করা অনেক শ্রেয় হবে।

রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার আবদুর রহিম বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে মিয়ানমার যেসব কথা ও আশ্বাস দিয়ে আসছে, আজকের আলোচনায়ও সেগুলোর পুনরাবৃত্তি করেছে।’ রোহিঙ্গা নেত্রী সেতারা বেগম, জামালিদা ও সাদেকা খাতুন বলেন, আলোচনাকালে মিয়ানমার কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বেশ তর্কাতর্কি হয়েছে।

ক্যাম্প-২-এর চেয়ারম্যান সিরাজুল মোস্তফা বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি নাগরিকত্ব যাচাই কার্ড বা এনভিসি গ্রহণ না করা, পুরনো কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের অভ্যর্থনা ক্যাম্প থেকে নাগরিকত্ব প্রদান করা, ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের জায়গাজমি ফেরত প্রদান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে তার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু মিয়ানমার ডেলিগেশন আগের অবস্থানে অটল থেকে তাদের কোনো দাবি মানেনি।

গত বুধবার ও গতকাল উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক্সটেনশন-৪ ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে মিয়ানমার ও আসিয়ান প্রতিনিধিদলের সংলাপ হয়। এতে ৪১ রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা ও ছয় নেত্রী অংশ নেন।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অর্থনৈতিক বিভাগের পরিচালক চ্যান অ্যায়ের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদলে দেশটির পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, শ্রম ও অভিবাসন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রয়েছেন। সাত সদস্যের আসিয়ান প্রতিনিধিদলে রয়েছেন আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আদনান তাহিয়ান, অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. শামসুদ্দোজা নয়ন, উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল মনসুরসহ সরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তারা।

অতিরিক্ত সচিব শামসুদ্দোজা নয়ন বলেন, সকালে একই স্থানে পুনরায় সংলাপ শুরু হয়ে ২টার দিকে শেষ হয়। মিয়ানমারের ৯ সদস্যবিশিষ্ট ও আসিয়ানের ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি দুদিনের সফর শেষে বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করেছে।

এর আগে গত ২৭ জুলাই মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর করেন। আগের বছর ১১ এপ্রিল দেশটির সমাজকল্যাণমন্ত্রী উইন মিয়াট আয়ের নেতৃত্বে আরেকটি প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলতে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত