চীনে নির্যাতিত সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের পাশে দাঁড়াতে আর্সেনাল ফুটবলার মেসুত ওজিলের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে তুরস্কের জনগণ। শুক্রবার ইস্তাম্বুলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে তারা।
উইঘুরদের পক্ষ নিয়ে সম্প্রতি টুইট করেন ওজিল। তাতে উইঘুরদের ‘নির্যাতন প্রতিরোধকারী যোদ্ধা’ বলে প্রশংসা করে চীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন এই ফুটবলার। তাদের রক্ষায় মুসলিম বিশ্ব কেন এগিয়ে আসছে না, সে জন্য হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারকা এই মিডফিল্ডার।
এমন মন্তব্যের পর চীনে আর্সেনালের খেলা সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ওজিলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে ইংলিশ লিগের ক্লাবটির। তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওজিলের মন্তব্য ব্যক্তিগত, ক্লাবের নয়।
অনেকে ওজিলের সমালোচনামুখর হলেও তার পাশে দাঁড়িয়েছে তুরস্কের জনগণ। চীনের উইঘুর মুসলিমদের সমর্থনে বিক্ষোভ করার পাশাপাশি আর্সেনাল মিডফিল্ডার ওজিলের মন্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে তারা।
উইঘুরদের বসবাসকারী চীনের স্বায়ত্তশাসিত জিনজিয়াং প্রদেশ ‘ইস্ট তুর্কিস্তান’ বলে পরিচিত তুর্কিদের কাছে। এই অঞ্চলে বসবাসকারী মুসলমানদের পক্ষ নিয়ে চীন সরকারের সমালোচনা করে নানা স্লোগান লিখে ব্যানার প্রদর্শন করে বিক্ষোভকারীরা। ‘নিষ্ঠুরতা বন্ধ কর’, ‘হত্যাকারী চীন পূর্ব তুর্কিস্তান থেকে চলে যা’, ‘পূর্ব তুর্কিস্তান একা নয়’ ব্যানারগুলোতে লেখা ছিল এমনসব স্লোগান।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, সন্ত্রাস নির্মূল কার্যক্রমের দোহাই দিয়ে জিনজিয়াং প্রদেশে ১০ থেকে ২০ লাখ উইঘুরকে নির্মমভাবে বন্ধী করে রেখেছে চীন সরকার। যদিও তারা বলছে, উইঘুরদের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে না। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ‘ভুয়া সংবাদ’ দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন ওজিল।
উইঘুরদের রক্ষায় জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জেতা ফুটবলার ওজিলের আহ্বান অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানিয়েছেন ইস্তাম্বুলে বিক্ষোভে আসা আদেম আদিল নামের একজন-“মেসুত ওজিলের বিনয়ী ব্যবহার আহাদের উৎসাহিত করেছে... মেসুতের মতো সবাইকে এই অত্যাচারীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।”
