এসএমই প্লাটফর্মের প্রথম আইপিও মিরা অ্যাগ্রো

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০৬ এএম

স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোর জন্য পৃথক লেনদেন ব্যবস্থা (এসএমই প্ল্যাটফর্ম) তৈরির প্রায় আট মাস পর প্রথম আইপিওর (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) আবেদন পেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গতকাল মিরা অ্যাগ্রো ইনপুটস লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি প্রসপেক্টাস জমা দিয়েছে। এটিই এসএমই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্তির জন্য জমা দেওয়া প্রথম আইপিও। এর মাধ্যমেই আগামী বছরের প্রথম প্রািন্তকে এসএমই প্ল্যাটফর্মে লেনদেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।     

দেশের স্বল্প ও মাঝারি মূলধনের কোম্পানিগুলোর মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরিতে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল ডিএসইর এসএমই প্ল্যাটফর্ম চালু হয়। এরপর গতকাল এ প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত হতে প্রথম আইপিও হিসেবে মিরা অ্যাগ্রো ইনপুটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল্লাহ-আল-মামুন ডিএসইর কাছে খসড়া প্রসপেক্টাস জমা দেন। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে কোম্পানিটি অভিহিত মূল্যে ৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি ভূমি উন্নয়ন, বিদ্যমান কারখানা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, চলতি মূলধন এবং আইপিওতে ব্যয় করবে।

অনুষ্ঠানে ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম বলেন, পণ্যের বৈচিত্র্য আনয়নে পুঁজিবাজারে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো। এসএমই খাতের প্রথম কোম্পানি হিসেবে মূলধন উত্তোলন করে মিরা অ্যাগ্রো ইনপুটস ব্যবসার প্রসার ঘটিয়ে বিনিয়োগকারীদের লাভবান করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

মিরা অ্যাগ্রো ইনপুটস মূলত কৃষিপণ্য এবং বীজজাত উন্নয়ন, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাতকরণ করে থাকে। ২০১৯ সালের ২ ফেব্রম্নয়ারি কোম্পানিটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়। চলতি বছরের ৩০ জুন কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ছিল ২ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বর শেষে ৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০১৯ সালের জুন হিসাব বছর শেষে মিরা অ্যাগ্রোর পণ্য বিক্রি থেকে আয় হয় ৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এ সময় নিট মুনাফা হয়েছে ৬২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, মূলত মূল বোর্ডে যাওয়ার আগে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোকে সহজ উপায়ে তালিকাভুক্ত করার একটা প্রক্রিয়া হচ্ছে এসএমই বোর্ড। এই প্ল্যাটফর্মে যদি ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তা বাজারের জন্য সুফল বয়ে আনবে। এক্ষেত্রে ডিএসই বোর্ড সর্বাত্মক সহায়তা করবে।

স্বল্প মূলধনী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহের সুযোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে এসএমই প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। মুনাফায় থাকা কোম্পানির পাশাপাশি লোকসানি প্রতিষ্ঠানও অভিহিত মূল্যে ফিক্সড প্রাইস (স্থিরমূল্য) পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। গ্রিনফিল্ড বা এখনো বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আসেনি এমন কোম্পানিকেও এ বাজারের মাধ্যমে মূলধন উত্তোলন ও লেনদেন করার সুযোগ পাবে।

তবে ঝুঁকি থাকায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন না। কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার (কিউআইও) বা যোগ্য বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি মার্কেট মেকার এবং ১ কোটি টাকার বেশি সম্পদশালী প্রবাসী ও স্থানীয়রা এই প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। এ বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা মূল বাজারের তুলনায় কম হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে পুঁজিবাজারমুখী করতেই এ ছাড় দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত