আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা কাল

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:৫৯ এএম

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে গতকাল মঙ্গলবার গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের বৈঠক শেষে এ কথা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত শনিবার দলের ২১তম সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ৮১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির মধ্যে ৪২ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। সেদিন শেখ হাসিনা জানান, দলের নবনির্বাচিত সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে বাকি ৩৯ নেতা নির্বাচন করা হবে। সে ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সভা শুরু হয়। রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত চলা সভায় শতাধিক নেতার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে চুলচেরা বিশেস্নষণ হয় বলে সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান।

তারা আরও জানান, সভায় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের কাছ থেকে লিখিতভাবে সম্ভাব্য নেতাদের নাম নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সদস্যরা বলেছেন, এগুলো তাদের ‘সাজেশন’। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগপ্রধান। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা গত কমিটি থেকে বাদ পড়া কয়েকজন সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েকজনকে নতুন কমিটিতে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, এনামুল হক শামীম ও আমিনুল ইসলাম আমিন। এ ছাড়া পরামর্শ এসেছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদেরও নতুন কমিটিতে রাখার। পুরনো কোনো কোনো নেতাকে নতুন কমিটিতে রাখার ব্যাপারে নেতিবাচক আলোচনাও হয়েছে।

সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৈঠকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় থাকা ড. আবদুর রাজ্জাকের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। সাধারণ সম্পাদক হতে চেয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশ দিয়ে তদবির করানোর কারণে তার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

সভা শেষে গণভবনের গেটে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের আরও জানান, পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে আগামী ৩ জানুয়ারি টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখানেই যৌথ সভার মাধ্যমে নতুন কমিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। তিনি জানান, বাকি পদগুলোতে নতুন মুখের পাশাপাশি পুরনোরাও থাকবেন। নতুন কমিটির পদ হারানো মন্ত্রীরা ৩৯ জনের তালিকায় জায়গা পাবেন কি না সে বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তের ওপর সবকিছু নির্ভর করছে। সভায় ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, সভার শুরুতে পরিচয় পর্বে জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়ে বসে পড়তে গেলে শেখ হাসিনা তাদের বিস্তারিত কর্মকাণ্ড শুনতে চান। এরপর তারা দুজন আধা ঘণ্টা করে তাদের রাজনৈতিক জীবন তুলে ধরেন।

নতুন কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর ১১টি এবং কার্যনির্বাহী সদস্যের ২৮টি পদ ফাঁকা রয়েছে। সম্পাদকমণ্ডলীর পদগুলো হলো– কোষাধ্যক্ষ, অর্থ ও পরিকল্পনা, শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক, ধর্মবিষয়ক, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক, তিনটি সাংগঠনিক সম্পাদক পদ এবং উপ-প্রচার ও উপদপ্তর সম্পাদক।

গত শনিবার দলের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টানা নবমবারের মতো সভাপতি হন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কাউন্সিলররা কণ্ঠভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেন। পরে তারা শেখ হাসিনাকে নতুন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব দেন। এরপর নবনির্বাচিত সভাপতি শেখ হাসিনা একে একে কমিটির ৪০ জনের নাম ঘোষণা করেন। ৮১ সদস্যের কমিটির বাকি পদগুলো সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পূরণ করবেন বলে জানান শেখ হাসিনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত