বেনাপোল কাস্টমস হাউসে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধস

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৫৮ এএম

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধস নেমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে স্থলবন্দরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ১৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার রাজস্ব আয় কম হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাস্টমস এর ব্যাপক কড়াকড়ি ও বাণিজ্যিক পণ্যসহ উচ্চ ডিউটি সম্পন্ন পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি হয়েছে। তবে এটি শিগগিরই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ৪২৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৫৫৩ কোটি ৮০ লাখ, আগস্টে ৫০৬ কোটি ২৯ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৪০৫ কোটি ১০ লাখ, অক্টোবরে ৪২৮ কোটি ৩১ লাখ ও নভেম্বরে ৫৩৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর বিপরীতে গত পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে এক হাজার ২৫২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ফলে প্রথম পাঁচ মাসে রাজস্ব ঘাটতি থেকে গেছে ১ হাজার ১৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর আগের অর্থবছর রাজস্ব ঘাটতি ছিল ১৭৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের অধিকাংশ শিল্প কলকারখানা ও গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ এর শতকরা ৮০ ভাগ কাঁচামাল আমদানি হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৫ হাজার ৫’শ কোটি টাকার অধিক রাজস্ব আদায় হওয়ার কথা। পণ্য আমদানির বেলায় ব্যাপক কড়াকড়ির কারণে আমদানিকারকরা অন্যান্য বন্দরে চলে গেছে। সব বন্দরে আমদানি পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য এক  থাকলে বেনাপোল বন্দর দিয়েই সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি হতো। কারণ স্বল্প সময়ে কম খরচে বেনাপোল বন্দর দিয়েই দ্রুত পণ্য খালাস করা সম্ভব। চট্টগ্রাম বন্দরে যে পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য ধরা হয় চার ডলার, বেনাপোল বন্দরে একই পণ্যের শুল্কায়ন ধরা হয় সাড়ে চার ডলার। দেশের সব বন্দর থেকে বেনাপোলে সবচেয়ে বেশি মূল্যে শুল্কায়ন করা হয়ে থাকে।

৯০ একর জমির অবস্থিত বেনাপোল স্থলবন্দর ৫৯ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন। এ বন্দরে বর্তমানে প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টন পণ্য ওঠানামা করে। দেশের ২৪টি স্থলবন্দরের মধ্যে চলমান ১২টি বন্দরের মধ্যে  অন্যতম বেনাপোল স্থলবন্দর।

প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে পণ্য আমদানির জন্য দেশে যতগুলো বন্দর রয়েছে তার মধ্যে দ্রুত পণ্য আমদানি হয়ে থাকে বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে। এ ছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের অন্য যেকোনো বন্দরের তুলনায় উন্নত। বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। সে কারণে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ পণ্য আমদানি হয় এ বন্দর দিয়ে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, স্থলবন্দরের ধারণক্ষমতা ৫৯ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু এখানে সব সময় পণ্য থাকে এক থেকে দেড় লাখ টন। জায়গার অভাবে পণ্য খালাস করতে না পেরে ভারতীয় ট্রাক বন্দরে দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকে। খোলা জায়গায় রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে-পুড়ে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান পণ্যসামগ্রী। ব্যবসায়ীরা বৈধ সুবিধা পেলে স্থলবন্দর থেকে বর্তমানে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে তখন দ্বিগুণ আয় হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (প্রশাসন) আবদুল জলিল বলেন, অর্থনীতিতে বেনাপোল স্থলবন্দরের বিপুল অবদানের পাশাপাশি বেনাপোলের পারফরম্যান্সও অনেক ভালো। এরই মধ্যে আমরা অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছি। বেনাপোল বন্দরকে আরও উন্নত করতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প নেয়া হয়েছে, যা সম্প্রতি একনেকে অনুমোদন হয়েছে। কার্গো ভেহিকল টার্মিনাল হয়ে গেলে যানজট একেবারেই থাকবে না। ফলে পণ্য পরিবহন বাড়বে।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, পণ্য চালান খালাসে আগের চেয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বেড়েছে। শুল্ক ফাঁকি বন্ধে কড়াকড়ি আরোপ করায় কিছু ব্যবসায়ী এ বন্দর দিয়ে আমদানি কমিয়েছেন। বিশেষ করে বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব কিছুটা ঘাটতি হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত