পঞ্চগড়ে ধান ক্রয় কর্মসূচিতে বাদ ৯৫ শতাংশ কৃষক

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০৯ এএম

পঞ্চগড়ে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের প্রভাব বাজারে পড়েনি। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ২৬ টাকা দরে ধান কেনার ঘোষণা দিলেও পঞ্চগড়ে ৪ ভাগের ৩ ভাগ কৃষকই এই সুবিধা পাননি। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকরা বাজারে ১৫ থেকে ১৭ টাকা কেজি দরে এখন ধান বিক্রি করছেন। এতে লোকসানে পড়েছেন জেলার অধিকাংশ কৃষক।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ২৬ টাকা কেজি দরে ১২ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অধিক কৃষককে এই সুবিধায় আনার জন্য প্রত্যেক কৃষকের কাছ থেকে এক টন করে ধান কেনা হবে। এই হিসাব অনুযায়ী ১২ হাজার ১৪৪ জন কৃষক সরকারি গুদামে ধান দিতে পারবেন। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড়ে এবার আমন চাষ করেছেন প্রায় তিন লাখ কৃষক। ফলে সরকারি গুদামে নিশ্চিতভাবেই বাদ পড়বেন ৯৫ শতাংশ কৃষক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার ৯৯ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৩ লাখ ৬ হাজার ৩০২ মেট্রিক টন ধান। সরকারিভাবে উৎপাদনের ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ ধান ঢুকবে সরকারি গুদামে। বাজারগুলোতে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ধান।

এদিকে, সরকারিভাবে ধান ক্রয়ে কৃষি বিভাগের মনগড়া-গোঁজামিল তালিকায় লটারি অনুষ্ঠিত হওয়ায় পঞ্চগড় সদর উপজেলায় অধিকাংশই উঠেছে ভূমিহীন ব্যক্তির নাম। এতে তাদের নিজেদের ধান না থাকায় বেড়েছে ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য।

এতে উপজেলাজুড়ে প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিজেদের পর্যাপ্ত ধান মজুদ থাকার পরও লটারিতে নাম না ওঠায় সরকারের কাছে নির্দিষ্ট মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারছেন না তারা। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের মনগড়া তালিকা আর ফরিয়াদের দৌরাত্ম্যের প্রতিবাদে ইতিমধ্যে হাড়িভাসা ইউনিয়নের কিছু কৃষক সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর গণ-অভিযোগ দাখিল করেছেন।

তবে কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, এবারের তালিকা করার ক্ষেত্রে ভূমিহীন (যাদের ভিটেবাড়ি আছে), প্রান্তিক চাষি (যাদের ৫ থেকে ৫০ শতক জমি আছে) এবং ক্ষুদ্র চাষি (যাদের ৫০ থেকে ২৫০ শতক জমি আছে) এমন ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা নির্দেশনা আছে। এ ছাড়া স্বল্প সময়ের মধ্যে তালিকা তৈরি করায় কিছুটা গরমিল হয়েছে বলে জানায় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকতার কার্যালয়।

ক্ষুব্ধ কৃষকদের দাবি, কৃষি বিভাগ থেকে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ইউনিয়ন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে গিয়ে নিজেরা তালিকা তৈরি না করে স্থানীয় কিছু লোকের মাধ্যমে ঢালাওভাবে নাম সংগ্রহ করায় এমন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি ভূমিহীন ব্যক্তিদের স্ত্রীদেরও কৃষক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হয়েছেন।

পঞ্চগড় জেলা পরিষদের সদস্য ও হাড়িভাসা ইউনিয়নের বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, এসব নামধারী কৃষকের একেকটি কার্ড এখন তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যবসায়ী বলেন, আমরা কৃষি কার্ড কিনছি না। যারা ধান সরবরাহ করতে পারছেন না তদের সহযোগিতা করছি।

এদিকে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহ আলম মিয়া বলেন, এই তালিকা তৈরি করার জন্য আমরা মাত্র পাঁচ দিন সময় পেয়েছিলাম। এত অল্প সময়ের মধ্যে তালিকা তৈরি করায় কিছুটা গরমিল হতে পারে। তবে প্রকৃত কৃষকরাই এই সুবিধার আওতায় আছেন বলে তিনি দাবি করেন।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী বলেন, লটারির সময় তালিকা সঠিক রয়েছে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কৃষকদের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত