দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারতে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুণ। এই বন্দর দিয়ে প্রতি বছর প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা মূল্যের বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হয় বলে কাস্টমস সূত্র জানায়।
রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ বৃদ্ধি পেয়ে তৈরি হয়েছ নতুন নতুন কর্মসংস্থান।
সূত্র জানায়, গত ৩ বছরে ভারতে রপ্তানি হয়েছে ১৮ লাখ ৫১ হাজার ২৫৭ মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের পণ্য। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাট ও পাট জাত দ্রব্য,ঝুট, সুপারি, তৈরি পোশাক, মাছ, কেমিক্যাল, মেহগনি ফল, টুকরা কাপড়, চালের কুড়া, ঝাঁটার কাঠি, সাবান ও প্লাস্টিক ডাস্ট উল্লেখ্যযোগ্য।
বেনাপোল আমদানি রপ্তানি কারক সমিতির সহ সভাপতি আমিনুল হক জানান, ভারতের সঙ্গে স্থলপথে বাণিজ্যের ৭০ শতাংশ হয়ে থাকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় শুরু থেকে এ বন্দর দিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি। তবে, ভারতীয় অংশে নানা হয়রানির কারণে রপ্তানি বাণিজ্য কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ভারতীয় পণ্যের রপ্তানি বাণিজ্যে সেদেশের ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি আগ্রহী হলেও বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে তাদের আগ্রহ কম। ভারত অংশে অবকাঠামো উন্নয়ন ও হয়রানি কমলে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে।
রপ্তানি পণ্য বহনকারী বাংলাদেশি ট্রাক চালক আলিম মিয়া জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া সব ধরনের রপ্তানি পণ্যবোঝাই ট্রাক দাঁড় করিয়ে তল্লাশির নামে হয়রানি করে থাকেন বিএসএফ সদস্যরা। মাঝে মধ্যে বাংলাদেশি ট্রাক চালকদের শারীরিক নির্যাতন করে তারা। এছাড়া, বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও ভারতীয় পেট্রাপোল বন্দরে লেবারদের হয়রানির কারণেও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক আ. সলিল জানান, আগে অবহেলা ছিল রপ্তানি বাণিজ্যে। বর্তমান কাস্টমস কমিশনারের হস্তক্ষেপে রপ্তানিতে গতি ফিরেছে। ভারতীয় অংশে হয়রানি বন্ধে সেদেশের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী বলেন, গত ৩ বছরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি আয় বেড়েছে দ্বিগুণ। পণ্য রপ্তানিতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। রপ্তানি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে অফিসারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
