২০২৩ থেকে টেস্ট হবে ৪ দিনে!

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:০২ এএম

সব ঠিক থাকলে ২০২৩ সালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেই চার দিনের টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে সময় এবং খরচ দুই বাঁচবে। তাছাড়া বেশি ওভারও নষ্ট হবে না। কারণ প্রতিদিন যেখানে ৯০ ওভার খেলা হতো সেখানে খেলা হবে ৯৮ ওভার। ফলে চার দিনের টেস্টে ৫ দিনের চেয়ে মাত্র ৫৮ ওভার কম খেলা হবে। এতে ফলাফলে তেমন প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচির বাড়তি চাপ সামলাতেই আইসিসি চারদিনের টেস্টকে বাধ্যতামূলক করতে চাচ্ছে বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো। আইসিসির ক্রিকেট কমিটি অনুষ্ঠানিকভাবে আগামী বছর নিয়মে পরিবর্তন আনতে পারে। চারদিনের টেস্ট বাধ্যতামূলক হলে আইসিসির সফরসূচিতে বাড়তি সময় মিলবে। তারা চাইলে প্রতি বছর একটি করে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টেরও আয়োজন করতে পারবে। টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে ক্রিকেটের রমরমার যুগে যা এখন সময়ের দাবি।

ক্রিকইনফো একটি হিসাব উল্লেখ করে দেখিয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টেস্ট ম্যাচ ৪ দিনে হলে আইসিসির ক্রিকেট সূচিতে ৩৩৫ দিন বেঁচে যেত, যা প্রায় এক বছর সময়ের মতো। অর্থাৎ ২০২৩ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত চারদিনের টেস্ট বাধ্যতামূলক হলে ওই সংখ্যক দিন অন্য সংস্করণের জন্য ব্যয় করতে পারবে আইসিসি। সঙ্গে আয়োজক এবং স্পন্সরদের অনেক খরচও বাঁচবে। কারণ টেস্টে এখন বাজেট করা হয় পাঁচ দিন খেলার কথা মাথায় রেখে। কেউ যদি ভাবেন এতে ফলাফলে প্রভাব পড়বে তাদের জন্য আছে পরিসংখ্যান। ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত যত টেস্ট খেলা হয়েছে তার ৬০ ভাগ টেস্ট শেষ হয়েছে চারদিনে বা তার কম সময়ে।

তাছাড়া এখন যেখানে চার টেস্টের সিরিজ আয়োজন করতে ২০ দিন লাগে তখন এই সময়ে পাঁচ টেস্টের সিরিজ আয়োজন করা যাবে। এসব সুবিধার কারণেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কেভিন রবার্টস বলেছেন, ‘গুরুত্বের সঙ্গে আমাদের বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত। এটা এমন বিষয় যা আবেগ নয় আমাদের বোঝা উচিত  যুক্তি দিয়ে। দেখতে হবে গত ৫ থেকে ১০ বছরে টেস্টগুলো গড়পরতা কত দিনে হয়েছে। তবে সবাই যে টেস্টের সময় সংক্ষেপ করার পক্ষে আছে তা নয়। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক টিম পেইন যেমন বলেছেন, ‘অ্যাশেজ যদি চারদিনে হতো আমরা হয়তো ফল দেখতে পেতাম না। আমার মনে হয় সিরিজের সব টেস্টই পঞ্চম দিনে গেছে। টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে অন্য খেলার পার্থক্য এটাই যে এটা পাঁচ দিনের খেলা। মানসিক ও শারীরিকভাবে  ক্রিকেটারদের দৃঢ় করে টেস্ট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট যা চারদিনে হয় তার চেয়ে টেস্ট অনেক বেশি পরীক্ষা নেয়। আমার মনে হয় টেস্ট যেভাবে চলছে সেভাবেই চলা উচিত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত