মার্কিন হামলায় নিহত কে এই কাসেম সোলেইমানি

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২০, ১০:০৩ এএম

নতুন বছরের শুরুতেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শিকার হলেন ইরানের কুদস বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল কাসেম সোলেইমানি। ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামতেই বিমান হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া বাহিনীর ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ২৫ যোদ্ধা নিহত হওয়া এবং এর জের ধরে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের সামনে টানা দুদিনের বিক্ষোভের পর এ হামলার ঘটনা ঘটল।

মধ্যপ্রাচ্যে যে কোনো শক্তির জন্য আতঙ্ক ধরানো কুদস বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিলেন কাসেম সোলেইমানি । ইরানের সেনাবাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) একজন সাধারণ কমান্ডার থেকে দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী ও দুর্ধর্ষ সেনা কর্মকর্তা হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

অলিখিতভাবে তার মর্যাদা ছিল ইরানের সেনাবাহিনীর যে কোনো সামরিক কর্মকর্তার ওপরে।  ইরান বিপ্লবের পর সোলেইমানিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ‘অর্ডার অব জুলফিকার’ পদকে ভূষিত হয়েছেন।

গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সোলেইমানির হাত দিয়ে ইরানের কুদস বাহিনী গড়ে উঠে। মূলত ইরানের বাইরে এই বাহিনীটির কার্যক্রম।

মধ্যপ্রাচ্যে অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে ইরানের প্রভাব বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখে এই স্পেশাল ইউনিটটি। ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ একাধিক শিয়া মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রিত হয় কুদস বাহিনীর মাধ্যমে।

ইরানি বাহিনীটির সঙ্গে যুক্ত আছে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস ও ইসলামিক জিহাদ, পাকিস্তানে ফাতেমিয়ুন এবং আফগানিস্তানে জাইনাবিয়ুন, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ও মিলিশিয়া বাহিনীগুলো।

ইরাকি মিলিশিয়া গ্রুপগুলোর সমন্বিত সংগঠন পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) নিয়ন্ত্রিত হতো সরাসরি কুদস বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। নিহত হওয়ার সময়ও পিএমএফ বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় ছিলেন সোলেইমানি।

অপ্রচলিত যুদ্ধ ও গুপ্ত হামলার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে দিন দিন অপ্রতিরোধ্য শক্তি হয়ে উঠেছিল কুদস বাহিনী। সোলেইমানি র সামরিক বিচক্ষণতা, কৌশল ও চৌকস নীতির কাছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি রীতিমতো হুমকির মুখে পড়েছিল। অঞ্চলটিতে মার্কিন মিত্র শক্তি সৌদি আরব, আরব আমিরাত, ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের আতঙ্ক ছিলেন  ৬২ বয়সী এই জেনারেল।

ইরাকে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন জেনারেল সোলেইমানি। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে একাধিক তেলের ট্যাংকারে হামলায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য ইরানকে দায়ী করা হয়ে থাকে পশ্চিমাগোষ্ঠী। একইভাবে সৌদি আরবে তেলক্ষেত্রে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে বিশ্বের জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরির পেছনেও ইরানের বিরুদ্ধে আঙুল উঠে। সিরিয়ার গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলে নিয়মিত হামলা তো আছেই। এমন সব ঘটনার পেছনে কলকাঠি মনে করা হয়ে থাকে সোলেইমানি ও তার কুদস বাহিনীকেই।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে বিক্ষোভ দমন ও গুপ্তহত্যার পেছনেও কুদস নিয়ন্ত্রিত মিলিশিয়া বাহিনীকেই দায়ী করা হয়ে থাকে।  

স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় টার্গেটে পরিণত হন সোলেইমানি। গুপ্তঘাতকের মাধ্যমে বেশ কয়েকবার তাকে হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

গত বছরও ইরানি এই জেনারেলকে গুপ্তহত্যার জন্য ইহুদি ও আরবদের পাঠানো একটি দলকে আটক করা করে ইরান। তার ওপর এভাবে প্রকাশ্যে হামলা প্রথম বলা চলে, যাতে তিনি নিহত হলেন।

সোলেইমানিকে হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সাফল্য বলা চলে। সেই সঙ্গে ইরাক এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যতের জন্য ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই হত্যাকাণ্ডকে। সোলেমানিকে হারিয়ে স্বাভাবিকভাবেই মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে ইরানকে।

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানি কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল সোলেইমানি নিহত

ইরানের আলোচিত জেনারেল সোলেইমানিকে ‘হত্যাচেষ্টা নস্যাৎ’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত